কালবৈশাখীর তাণ্ডবে বিদ্যুৎহীন মাদারগঞ্জ-ইসলামপুর, দুর্ভোগে লাখো মানুষ

জামালপুরের মাদারগঞ্জ ও ইসলামপুর উপজেলায় কালবৈশাখ়ীর তাণ্ডবে অন্তত লাখো মানুষ ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বন্ধ থাকা বিদ্যুৎ শুক্রবার সকাল পর্যন্ত পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল ৭টা থেকে ১০টা পর্যন্ত জামালপুরের বিভিন্ন এলাকায় টানা ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাত হয়। এ সময় মাদারগঞ্জ, মেলান্দহ ও ইসলামপুর উপজেলার ওপর দিয়ে তীব্র কালবৈশাখী বয়ে যায়। ঝড়ে সড়কের পাশের গাছ ও ডালপালা ভেঙে পড়ে। এতে কয়েকটি এলাকায় সাময়িকভাবে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাদারগঞ্জ উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার অধিকাংশ এলাকায় এখনো বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মধ্যে রয়েছে পাকরুল, হিদাগাড়ী, নব্যচর, গাবেরগ্রাম, চরনাংলা, বালিজুড়ী নামাপাড়া ও খিলকাটিসহ অন্তত ৪০টি এলাকা।
অন্যদিকে ইসলামপুর উপজেলার অন্তত ১০টি গ্রাম এখনো বিদ্যুৎহীন। এর মধ্যে পাথর্শী, পূর্ব গামারিয়া, ঢেংগারগড়, দেলিরপাড় ও রৌহারকান্দা এলাকায় দুর্ভোগ বেশি দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল ফোন চার্জ দিতে না পারা, ইন্টারনেট ও নেটওয়ার্ক সমস্যার পাশাপাশি ফ্রিজে রাখা খাবার নষ্ট হওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ইসলামপুর উপজেলার পূর্ব গামারিয়ার বাসিন্দা মাইনুল ইসলাম বলেন, গতকাল সকাল থেকে বিদ্যুৎ নেই। সামান্য বৃষ্টি হলেই কারেন্ট চলে যায়। এখন ফোন চার্জও দিতে পারছি না। আজও সকাল থেকে বৃষ্টি হচ্ছে। কখন বিদ্যুৎ আসবে, তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই।
একই এলাকার বাসিন্দা প্রান্ত ফারাজি বলেন, মোবাইল চার্জ দিতে পারছি না, নেটওয়ার্কও ঠিকভাবে কাজ করছে না। রাতে অনেক কষ্টে থাকতে হয়েছে। ছোটখাটো ঝড়-বৃষ্টি হলেই এমন সমস্যা হয়।
মাদারগঞ্জের কড়ইচড়া ইউনিয়নের লালডোবা এলাকার বাসিন্দা আসাদুজ্জামান বলেন, ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎ নেই। যোগাযোগে সমস্যা হচ্ছে। ফ্রিজের খাবারও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
ভেলামারী এলাকার জিহাদ আহমেদ বলেন, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্কে সমস্যা হচ্ছে। বিদ্যুৎনির্ভর কাজও ব্যাহত হচ্ছে। বাচ্চাদের পড়াশোনাতেও সমস্যা হচ্ছে।
পৌরসভার বানীকুঞ্জ এলাকার আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, কালবৈশাখীর পর থেকেই বিদ্যুৎ নেই। পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে আছি। ফ্রিজের খাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
মাদারগঞ্জ জোনাল অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ে সাতটি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে গেছে। গাছের ডাল পড়ে প্রায় ৭০টি স্থানে তার ছিঁড়ে গেছে। এছাড়া অন্তত ১৩০টি গাছ উপড়ে পড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। ফলে বিস্তীর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাদারগঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার সৈয়দা ফারজানা ইয়াসমিন বলেন, ঝড়-বৃষ্টিতে বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে বিদ্যুতের লাইনের ওপর পড়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত খুঁটি ও লাইন মেরামতে মাঠপর্যায়ে কাজ চলছে। কয়েকটি এলাকায় আংশিক বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা গেলেও জনবল সংকটের কারণে কাজ কিছুটা বিলম্বিত হচ্ছে।
জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ভারপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক মো. সাহিদুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে গেছে। কোথাও কোথাও গাছের ডাল তারের ওপর পড়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। মেরামতের কাজ চলছে। তবে সব কাজ শেষ হতে আরও সময় লাগতে পারে।
