logo

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইটভাটা, ৭ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সিআইডির মামলা

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
ঢাকা
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইটভাটা, ৭ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সিআইডির মামলা
সাভার এলাকা। ছবি: গুগল ম্যাপ

সাভারে ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ এলাকায় ইট প্রস্তুত কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইটভাটা পরিচালনা ও পরিবেশদূষণের অভিযোগে তিন ব্যক্তি ও চারটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সিআইডির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। মামলাগুলো সাভার থানায় দায়ের করা হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিআইডি জানায়, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধনী-২০১৫) এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা, ২০১৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলাগুলো করা হয়েছে। অভিযুক্তরা পরিবেশগত অপরাধের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে অর্থের প্রকৃত উৎস গোপন করেছেন বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মামলায় অভিযুক্ত তিন ব্যক্তি হলেন মো. জাকির হোসেন, মো. আবু বকর ও কাওছার আহমেদ। তাদের মালিকানাধীন বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান হিসেবে ‘মেসার্স এ.বি.এন অ্যান্ড কোম্পানি’, ‘মেসার্স এম.এইচ.এস. স্টার’, ‘মেসার্স এম.এইচ.বি. স্টার কোং’ এবং ‘মেসার্স এআইএম ব্রিকস কোং’-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, পরিবেশ অধিদপ্তরের বায়ুমান পরিবীক্ষণ কেন্দ্রগুলোর তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে সাভারের বায়ুর বার্ষিক মানমাত্রা নির্ধারিত মাত্রার প্রায় তিনগুণ ছাড়িয়ে গেছে। এতে জনস্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাবের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সাভারকে মারাত্মক বায়ুদূষণপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

এ কারণে বায়ুদূষণ বিধিমালা, ২০২২-এর বিধি ৫-এর ক্ষমতাবলে ২০২৫ সালের ১৭ আগস্ট সাভার উপজেলাকে ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ ঘোষণা করে পরিবেশ অধিদপ্তর। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের ১ সেপ্টেম্বর থেকে সাভার উপজেলার সব ধরনের ইটভাটায় ইট পোড়ানোসহ ইট প্রস্তুতের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়।

সিআইডি জানায়, নিষেধাজ্ঞা জারির পরও অভিযুক্ত ইটভাটাগুলোতে বেআইনিভাবে ইট উৎপাদন অব্যাহত রাখার অভিযোগ পাওয়া যায়। এর মাধ্যমে বায়ুদূষণসহ পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি বিরূপ প্রভাব পড়ার বিষয়টি অনুসন্ধানে গুরুত্ব পায়।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ইটভাটাগুলোতে উৎপাদিত ইটের বাজারমূল্য প্রায় তিন কোটি টাকা। সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধানে এই অর্থ পরিবেশগত অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত অপরাধের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়েছে।

সিআইডি জানিয়েছে, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ক্ষতিসাধনকারী মানিলন্ডারিংয়ের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে আইনের আওতায় আনতে তাদের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি পরিবেশদূষণ ও সংশ্লিষ্ট অপরাধের মাধ্যমে অর্জিত অর্থের প্রবাহ শনাক্ত করার কাজও চলছে। এছাড়াও তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পরিচালিত অন্যান্য ইটভাটার বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সিআইডি।