logo
Advertisement

চুরির অপবাদে ১৪ বছরের শিশুকে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন

এশিয়া পোস্ট নিউজ,ফরিদপুর
চুরির অপবাদে ১৪ বছরের শিশুকে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন
মধুখালী থানার ফটক। ছবি: এশিয়া পোস্ট

ফরিদপুর

Advertisement

ফরিদপুরের মধুখালীতে লোহার রড চুরির অপবাদ দিয়ে তাওহিদ শেখ (১৪) নামে এক কিশোরকে হাত-পা ও চোখ-মুখ বেঁধে লোহার পাইপ দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় একটি মুড়ির কারখানার মালিক সাবেক সেনাসদস্য এবং তার ছেলের বিরুদ্ধে এই নির্যাতনের অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার। বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায় তাওহিদ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

অভিযুক্তরা হলেন মধুখালী উপজেলার নওপাড়া এলাকার ‘মায়ের দোয়া’ মুড়ির কারখানার মালিক সাবেক সেনাসদস্য ইশারত মোল্যা (৫৫) এবং তার ছেলে মুন্না মোল্যা (২২)।

নির্যাতনের শিকার তাওহিদ নওপাড়া ইউনিয়নের কুরানিয়ার চর এলাকার রুবেল শেখের বড় ছেলে। সে স্থানীয় একটি ফার্নিচারের দোকানে কাজ করে নিজের জীবিকা নির্বাহ করে।

ভুক্তভোগীর পরিবারের বিবরণ অনুযায়ী, গত রোববার (৩০ আগস্ট) রাত ৯টা থেকে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে কারখানার দ্বিতীয় তলার ছাদে আটকে রেখে তাওহিদের ওপর এই পৈশাচিক নির্যাতন চালানো হয়। নির্যাতন শেষে তাকে রক্তাক্ত ও আহত অবস্থায় কারখানার নিচে ফেলে রেখে যাওয়া হয়। রাত সাড়ে ১২টার দিকে খোঁজ পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করেন এবং পরদিন সকালে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, তাওহিদ ক্যাজুয়ালটি ও নিউরোসার্জারি বিভাগে শয্যাশায়ী। তার কোমর, নিতম্ব ও উরুসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক কালশিটে দাগ পড়ে আছে। তীব্র যন্ত্রণায় সে সোজা হয়ে বসতেও পারছে না। বিছানায় ছটফট করা এই শিশুর শয্যাপাশে বসে কান্নায় ভেঙে পড়েন তার দাদি রহিমা বেগম, বাবা রুবেল শেখ ও মা শম্পা বেগম।

হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে তাওহিদ জানায়, ঘটনার দিন রাত ৯টার দিকে ফার্নিচারের দোকানের কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরছিল সে। পথে মুড়ির কারখানার সামনে পৌঁছালে তাকে ডেকে দ্বিতীয় তলার ছাদে নিয়ে যান মুন্না মোল্যা। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন ইশারত মোল্যা।

তাওহিদ বলেন, ‘ছাদে নেওয়ার পরই তারা রশি দিয়ে আমার হাত-পা ও চোখ বেঁধে ফেলে এবং রড চুরির ব্যাপারে চাপ দিতে থাকে। আমি বারবার চুরির কথা অস্বীকার করায় তারা লোহার পাইপ দিয়ে নির্মমভাবে আমাকে মারধর শুরু করে। যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে চিৎকার দিলে তারা কাপড় দিয়ে আমার মুখ বেঁধে ফেলে।’

তাওহিদের দাদি রহিমা বেগম জানান, শিশুটিকে তারা অত্যন্ত যত্নে লালন-পালন করেছেন এবং সে কখনোই কোনো অনৈতিক কাজের সঙ্গে জড়িত ছিল না। রাতে ফিরতে দেরি দেখে খুঁজতে বের হয়ে কারখানার নিচ থেকে তার গোঙানির শব্দ পান তারা। পরে স্থানীয়দের কাছে বিচার চেয়েও কোনো প্রতিকার পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তাওহিদের বাবা রুবেল শেখ অভিযোগ করে বলেন, ‘ঘটনার প্রতিবাদ ও কথা বলতে গেলে উল্টো আমাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় এলাকার সাধারণ মানুষও প্রতিবাদ করতে ভয় পাচ্ছে।’ তারা অবিলম্বে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও মূল অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

মারধরের অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার না করলেও ইশারত মোল্যার দাবি, তাওহিদ ছাদ থেকে রড চুরি করতে এলে তাকে হাতে-নাতে ধরা হয়। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে ও ভাতিজারা তাকে শুধু কয়েকটি চড়-থাপ্পড় দিয়েছে। মানবিক কারণে তাকে পুলিশে না দিয়ে ছেড়ে দিয়েছিলাম।’

মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকদেব রায় জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।