logo

দিনে গরম, রাতে ঠান্ডা–খাগড়াছড়িতে বাড়ছে শিশু রোগী

দিনে গরম, রাতে ঠান্ডা–খাগড়াছড়িতে বাড়ছে শিশু রোগী
আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে খাগড়াছড়িতে বাড়ছে শিশু রোগীর সংখ্যা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

খাগড়াছড়িতে আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা। দিনে গরম ও রাতে ঠান্ডা এমন আবহাওয়ায় নিউমোনিয়া, সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ জন শিশু। হাসপাতালে বেডের তুলনায় শিশু রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় বাধ্য হয়ে মেঝেতে চিকিৎসাসেবা দিতে হচ্ছে।

সিনিয়র স্টাফ নার্স অনিতা চাকমা জানান, খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ২৫টি বেডের বিপরীতে রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ জন শিশু রোগী ভর্তি হচ্ছে। আজ মোট ৫১ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে মেঝেতে চিকিৎসাসেবা দিতে হচ্ছে। বেডের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি রোগী হওয়ায় সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমাদের হাসপাতালের পাশে দীর্ঘ আট বছর ধরে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট একটি নতুন ভবনের কাজ চলমান রয়েছে। নতুন ভবনের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পাশাপাশি জনবল নিয়োগ দেওয়া হলে রোগীদের স্বস্তির সঙ্গে আরও উন্নতমানের সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।

খাগড়াছড়ি জেলা আধুনিক সদর হাসপাতালে সেপ্টেম্বর মাসে ঠান্ডাজনিত রোগে প্রায় ৪০০ শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে ৫৬ জন শিশু। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেপ্টেম্বর মাসে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

গুইমারা উপজেলা থেকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা শিশুর মা উমেসিং মারমা বলেন, কয়েক দিন ধরে তার শিশুর সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্ট ছিল। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেওয়ার পরও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তারা শিশুটিকে সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

আরেক শিশুর মা রুবি আক্তার জানান, রাতে হঠাৎ শিশুর জ্বর ও কাশি বেড়ে যায়। পরে খিঁচুনিও দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে নিয়ে আসতে বাধ্য হন। এরপর শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এখন চিকিৎসক জানিয়েছেন, শিশুটি আশঙ্কামুক্ত।

অন্য এক শিশু রোগীর অভিভাবক মো. ফরিদ মিয়া বলেন, আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে বোধহয় শিশুরা দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়ছে। হাসপাতালে এসে দেখি, অনেক শিশুকে একই ধরনের সমস্যা নিয়ে আসতে দেখা যাচ্ছে। ডাক্তার রক্ত পরীক্ষা করে ওষুধ ও স্যালাইন দেওয়ায় আমার বাচ্চার এখন কিছুটা উন্নতি হয়েছে। আমরা আজ বাসায় ফিরে যাব। ডাক্তার বলেছেন, বাচ্চাকে উষ্ণ জায়গায় রাখতে।

খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. রিপল বাপ্পী চাকমা জানান, ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণে শিশুদের ঠান্ডাজনিত রোগের প্রবণতা বাড়ছে। বিশেষ করে নিউমোনিয়া, সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে শিশু রোগীর সংখ্যা বেশি।

তিনি এ সময়ে শিশুদের ঠান্ডা থেকে দূরে রাখা, অসুস্থ হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং শিশুদের শুষ্ক ও উষ্ণ জায়গায় রাখার আহ্বান জানান।

চিকিৎসকরা বলছেন, আবহাওয়া পরিবর্তনের এ সময়ে শিশুদের বাড়তি যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি ঠান্ডা ও ধুলাবালি থেকে দূরে রাখতে হবে। শ্বাসকষ্ট, উচ্চ জ্বর বা নিউমোনিয়ার উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।