Advertisement

রাত ৮টার পরও যশোরের বাণিজ্যিক এলাকায় ঝলমলে আলো

এশিয়া পোস্ট নিউজ, যশোর
রাত ৮টার পরও যশোরের বাণিজ্যিক এলাকায় ঝলমলে আলো
রাত ৮টার পরও যশোরে বন্ধ হয়নি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ছবি: এশিয়া পোস্ট

দেশে ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারের নতুন সময়সূচি কার্যকর হলেও যশোরে তার ব্যতিক্রম দেখা গেছে। গত বুধবার থেকে দেশের সব শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু নির্দেশনা কার্যকরের দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাত ৮টার পরও যশোর শহরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় বহু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা ছিল। দোকানে জ্বলছিল বৈদ্যুতিক বাতি, চলছিল বেচাকেনা, ছিল ক্রেতাদেরও ভিড়।

Advertisement

সরকারি নির্দেশনায় শুধু দোকানপাট নয়, সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সব ধরনের আলোকিত বিলবোর্ড বন্ধ এবং আলোকসজ্জা বন্ধ রাখার কথাও বলা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের সমন্বয়-২ শাখার উপসচিব মো. মামুন ভূইয়ার সই করা বুধবারের বিজ্ঞপ্তিতে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এর আগে গত ১১ জুন থেকে শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখার অনুমতি ছিল। বিদ্যুৎ সংকট তীব্র হওয়ায় নতুন সিদ্ধান্তে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধের সময় এক ঘণ্টা এগিয়ে রাত ৮টা করা হয়েছে। একই সময়সীমা দেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান ও অনুষ্ঠিতব্য মেলা, বাণিজ্য মেলা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। এসব আয়োজনও রাত ৮টার মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে বৃহস্পতিবার রাত ৮টার পর যশোর শহরের মুজিব সড়ক, এইচএম রোড, এমকে রোড, দড়াটানা ও চিত্রা মোড় এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তখনও খোলা। পোশাক, প্রসাধনী, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ বিভিন্ন ধরনের দোকানে বেচাকেনা চলছিল। দোকানের ভেতরে ও বাইরে বৈদ্যুতিক বাতি জ্বলছিল। অনেক প্রতিষ্ঠানের সামনে ক্রেতাদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।

বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকার যখন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সময় কমিয়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের উদ্যোগ নিয়েছে, তখন নির্ধারিত সময়ের পরও দোকানপাট খোলা রাখায় সরকারি সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নগরবাসীর অভিযোগ, নির্দেশনা জারি হলেও তা কার্যকর করতে মাঠপর্যায়ে পর্যাপ্ত তদারকি নেই।

মুজিব সড়কের পথচারী রাকিব হোসেন বলেন, ‘সরকার রাত ৮টার পর দোকানপাট বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছে। কিন্তু রাত ৮টার পরও যদি দোকান খোলা থাকে, তাহলে নির্দেশনার বাস্তবায়ন কোথায়? নিয়ম সবার জন্য সমান হওয়া উচিত।’

এইচএম রোডের পথচারী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য সরকার সময় নির্ধারণ করেছে। কিন্তু দোকানপাট খোলা থাকলে সেই উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো দরকার।’

তবে ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ বলছেন, নির্ধারিত সময়ের কাছাকাছি ক্রেতা থাকায় অনেক সময় সঙ্গে সঙ্গে দোকান বন্ধ করা সম্ভব হয় না।

শহরের লালদিঘীপাড়ের মোবাইল ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘রাত ৮টার মধ্যে দোকান বন্ধের সরকারি নির্দেশনা আমরা জানি। তবে অনেক সময় নির্ধারিত সময়ের কাছাকাছি ক্রেতা থাকায় সঙ্গে সঙ্গে দোকান বন্ধ করা সম্ভব হয় না। ক্রেতাদেরও বিষয়টি বুঝতে হবে। প্রশাসন যদি সবার জন্য একই নিয়ম প্রয়োগ করে, তাহলে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকেও নির্দেশনা মানা সহজ হবে।’

মাইকপট্টির ইলেকট্রিক ব্যবসায়ী মদন কুমার বলেন, ‘বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সরকারি সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছি না। তবে দোকান বন্ধের সময় নির্ধারণের আগে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করলে বাস্তব সমস্যাগুলো তুলে ধরা যেত। তারপরও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবসা পরিচালনার চেষ্টা করছি।’

যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী রাত ৮টার মধ্যে শপিংমল, মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ করতে হবে। নির্দেশনা অমান্য করে কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার সুযোগ নেই। নির্দেশনা অমান্য করলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিষয় :