Advertisement

নকল সিগারেট কারখানায় জব্দ মালামাল ২ কোটি, মামলায় ৩ লাখ

এশিয়া পোস্ট নিউজ, কুষ্টিয়া
নকল সিগারেট কারখানায় জব্দ মালামাল ২ কোটি, মামলায় ৩ লাখ
নকল সিগারেট তৈরির কারখানায় অভিযান ও জব্দ করা মেশিন। ছবি: এশিয়া পোস্ট

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে একটি নকল সিগারেট তৈরির কারখানায় অভিযানের পর জব্দ করা মালামালের পরিমাণ ও আনুমানিক মূল্য নিয়ে চরম গরমিলের অভিযোগ উঠেছে। দিনের বেলায় প্রশাসনিক অভিযানে প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের সরঞ্জাম ও ২০ লাখ শলাকা নকল সিগারেট জব্দের কথা জানানো হলেও, রাতে দায়ের করা মামলায় তা নেমে এসেছে মাত্র ৩ লাখ টাকায়।

Advertisement

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাত ১২টায় দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান এশিয়া পোস্টকে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অভিযানের মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে জব্দের তালিকা থেকে কীভাবে প্রায় ২ কোটি টাকার মালামাল উধাও হয়ে গেল, তা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে অভিযান পরিচালনাকারী প্রশাসন, পুলিশ এবং ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর (বিএটি) প্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়েও।

ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার (১২ আগস্ট)। সেদিন বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত দৌলতপুর সদর ইউনিয়নের গড়বাড়িয়া গ্রামের হাবিব মাস্টারের গরুর খামারের ভেতরের একটি গোডাউনে অভিযান চালানো হয়। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাশের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে পুলিশ ও বিএটির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্র ও উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে সে সময় জানানো হয়, গোডাউন থেকে ডার্বি, নেভি ও রয়েল ব্র্যান্ডের প্রায় ২০ লাখ শলাকা নকল সিগারেট এবং তা তৈরির বিপুল উপকরণ জব্দ করা হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা।

তবে রাত নামতেই বদলে যায় পুরো দৃশ্যপট। ওই রাতে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর লিগ্যাল অফিসার কাজী মর্তুজা রেজা বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি মামলা করেন। মামলার এজাহারে জব্দ দেখানো হয় মাত্র ২৫ হাজার শলাকা সিগারেট ও ২৫ বস্তা তামাক যার মোট মূল্য ধরা হয়েছে মাত্র তিন লাখ টাকা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযান পরিচালনাকারী সহকারী কমিশনার (ভূমি) স্থান ত্যাগ করার পর পুলিশ ও টোব্যাকো কোম্পানির প্রতিনিধিরা তড়িঘড়ি করে মূল গোডাউন থেকে মালামাল না দেখিয়ে, পাশের একটি বাড়ি থেকে মাত্র কয়েক বস্তা মালামাল ভ্যানে তুলে থানায় নিয়ে যান। এখানে বড় ধরনের কারচুপির ঘটনা ঘটেছে। তবে এই অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।

সংবাদ পাওয়া গেছে, কারখানায় থাকা সিগারেট তৈরির একটি মেশিনের দামই প্রায় ২ কোটি টাকা। বর্তমানে মেশিনটি তালাবদ্ধ অবস্থায় থাকলেও মামলার জব্দ তালিকায় এর কোনো উল্লেখ নেই।

জব্দের পরিমাণে এমন আকাশ-পাতাল ব্যবধান নিয়ে প্রশ্ন করা হলে অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তা ও দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাশ এশিয়া পোস্টকে বলেন, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর প্রতিনিধিরা প্রথমে যে তথ্য দিয়েছিলেন, সেটির ভিত্তিতেই মালামালের পরিমাণ ও আনুমানিক মূল্য জানানো হয়েছিল। মামলার এজাহারে যে পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে, তাতে চরম গরমিল রয়েছে এবং এটি অবশ্যই প্রশ্নবিদ্ধ। বিষয়টি নিয়ে বাদীপক্ষকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

তবে মামলার বাদী কাজী মর্তুজা রেজার দাবি, গোডাউন থেকে যতটুকু মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, এজাহারে সেটিই উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে গোডাউন মালিক হাবিব মাস্টারকে। এছাড়া শাকিল আহম্মেদ, লোকমান হোসেন লিওনসহ আরও ৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে অভিযানের সময় আসামিরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান এশিয়া পোস্টকে জানান, বাদীপক্ষ এজাহারে যে তথ্য ও বিবরণ দিয়েছে, পুলিশ সেটির ভিত্তিতেই মামলা নথিভুক্ত করেছে। আমি বুঝলাম না কীভাবে তিন লাখ টাকার জিনিস ২ কোটি টাকা হলো।