দুই গ্রামের সংঘর্ষে পণ্ড বিয়ের অনুষ্ঠান

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় একটি বিয়েবাড়ির অনুষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে পরিস্থিতি এখনও থমথমে হওয়ায় এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
রোববার (৩১ মে) সকালে উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের মরিচারচর ও চরআলগী গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগীরা জানান, ঈদের দিন বিকেলে উচাখিলা ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ের বটতলায় ঘুরতে গেলে তুহিন নামে এক তরুণের বোনকে লক্ষ্য করে চরআলগী গ্রামের কয়েকজন কিশোর অশালীন মন্তব্য ও অঙ্গভঙ্গি করে। এর প্রতিবাদ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
ওই ঘটনার জেরে শনিবার (৩০ মে) বিকেলে মরিচারচর গ্রামের রাব্বি ও রবিন বাজারে গেলে তাদের ওপর আবারও হামলা চালানো হয়। এ সময় তারা স্থানীয় ব্যবসায়ী ইব্রাহিম খলিলের দোকানে আশ্রয় নেন। এর জের ধরে রোববার চরআলগী গ্রামের ১৫ থেকে ২০টি বাড়িঘর এবং একটি বিয়ে বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। পরে এলাকার অর্ধশতাধিক খড়ের গাদায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
জানা গেছে, হামলার সময় চরআলগী গ্রামের হতদরিদ্র নাজিম উদ্দিনের মেয়ে আসমা খাতুনের বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। হামলাকারীরা বিয়ে বাড়িতে ঢুকে রান্না করা খাবার নষ্ট করে, অতিথিদের বসার স্থান তছনছ করে এবং থালা-বাসন ভাঙচুর করে।
নাজিম উদ্দিনের ভাই আলাল উদ্দিন বলেন, বিনা কারণে এমন হামলার ঘটনায় আমার ভাই অজ্ঞান হয়ে পড়েন। বর আসার আগেই এমন ঘটনা ঘটবে কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
উচাখিলা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আনোয়ারুল হাসান খান সেলিম বলেন, বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুর হয়েছে। এ ছাড়া একটি বিয়ে বাড়িতে ঢুকে রান্না করা খাবার নষ্ট করে অতিথিদের বসার স্থান তছনছ করা হয়েছে এবং থালা-বাসন ভাঙচুর করা হয়েছে। এটি অত্যান্ত দুঃখজনক ঘটনা।
এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এখনও সেখানে পুলিশ অবস্থান করছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
