Advertisement

‘একসঙ্গে বিয়ের কথা ছিল, একসঙ্গে ফিরছেন লাশ হয়ে’

এশিয়া পোস্ট নিউজ, নওগাঁ
‘একসঙ্গে বিয়ের কথা ছিল, একসঙ্গে ফিরছেন লাশ হয়ে’
নাতিদের হারিয়ে বিলাপ করছেন বৃদ্ধা নানী। ছবি : এশিয়া পোস্ট

নানিরো, দ্যাশে যাইয়া তোমাকেরেক জড়ায় ধরা বিয়াশাদি করমু। তোমারেক দিয়া কাজ করাইয়া নিমু না। তোমরা খালি খাবেন আর নাচগান করবেন, তোমাকেরেক লিয়া আনন্দ করবো। দুই ভাই একসাথে আইসা বিয়া করমু।—প্রবাস থেকে নানির সঙ্গে শেষবার ভিডিও কলে কথা বলার সময় ঠিক এভাবেই মিষ্টি আবদার করেছিলেন দুই ভাই মোহন ও সুমন।

Advertisement

কিন্তু সৌদি আরবে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কেড়ে নিল তাদের প্রাণ। নাতিদের সেই আবদারের কথা মনে করে বিলাপ করতে করতে নানি সায়রা বেগম বলছিলেন, সেই চাওয়াল দুডা আজ একসঙ্গে দুনিয়া ছাইড়া চইলা গেল। সেই বিয়া খাওয়া আর ভাগ্যে হইল না রে বাবারো! এমন ভাগ্য আল্লাহ দিল না রে বাবা!

সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একসঙ্গেই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে মোহন ও সুমনের স্বপ্ন। সেই সঙ্গে নিভে গেছে পরিবারটির একমাত্র আশার প্রদীপও।

রোববার রিয়াদের সেই ভয়াবহ আগুনে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার গন্ডগোহালি, ডুবাই, বৈঠাখালি, খনজোর, পারকাসুন্দা ও দিঘিরপাড় গ্রামের মোট ১৩ জন প্রবাসী কর্মী প্রাণ হারান। ওই অগ্নিকাণ্ডে নিহত মোট ১৬ জনের মধ্যে ১৩ জনই নওগাঁর সন্তান।

সবচেয়ে মর্মান্তিক দৃশ্য দেখা যায় আত্রাইয়ের কালিকাপুর ইউনিয়নের গন্ডগোহালি গ্রামের গুফফার প্রামাণিকের বাড়িতে। দুই সন্তান মোহন প্রামাণিক ও সুমন প্রামাণিককে হারিয়ে পুরো পরিবার এখন দিশেহারা। মা বিলাপ করতে করতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। আর উঠানে বসে দুই নাতির স্মৃতি মনে করে অঝোরে কাঁদছেন নানি সায়রা বেগম।

নানি সায়রা বেগম জানান, সংসারের অভাব দূর করতে বড় ভাই মোহন প্রথমে সৌদি আরবে যান। পরবর্তীতে ছোট ভাই সুমনকেও নিজের কাছে নিয়ে যান তিনি। দুই ভাই মিলে দিনরাত পরিশ্রম করে দেশে নতুন বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করেছিলেন। কথা ছিল বাড়ির কাজ শেষ হলেই এক সঙ্গে দেশে ফিরবেন, বিয়ে করবেন এবং পরিবারকে নিয়ে সুখে দিন কাটাবেন। কিন্তু এক নিমেষের আগুনে সব স্বপ্ন পুড়ে ছাই হয়ে গেল।

সন্তানদের হারিয়ে বাকরুদ্ধ বাবা গুফফার প্রামাণিক সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানিয়ে বলেন, মোহন ও সুমনসহ নিহত সব বাংলাদেশির মরদেহ যেন দ্রুত দেশে এনে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এ বিষয়ে নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শোকার্ত পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানানো হয়েছে। নিহতদের অধিকাংশই নওগাঁর হওয়ায় তাদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাপ্তরিক প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি নিয়মানুযায়ী স্বজনদের সার্বিক সহযোগিতা ও আর্থিক সহায়তা প্রদানের কার্যক্রম দ্রুত শুরু করা হবে।

বিষয় :