logo
Advertisement

টানা এক সপ্তাহ বিদ্যুৎহীন গ্রাম, ক্ষোভে পিডিবি কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর

এশিয়া পোস্ট নিউজ, ময়মনসিংহ
টানা এক সপ্তাহ বিদ্যুৎহীন গ্রাম, ক্ষোভে পিডিবি কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে পিডিবি কার্যালয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। ছবি: এশিয়া পোস্ট

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে এক সপ্তাহ ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকা এবং বারবার নষ্ট হওয়া ট্রান্সফরমার পরিবর্তন না করায় ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছেন। এ সময় এক উপসহকারী প্রকৌশলীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

Advertisement

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে ঈশ্বরগঞ্জ পৌর শহরের শিমরাইল গ্রামের দুই শতাধিক বাসিন্দা উপজেলা পিডিবি কার্যালয়ে গিয়ে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের একাংশ কার্যালয়ের কাচ, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ড্রয়ার ভাঙচুর করে। হামলায় পিডিবির উপসহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিম আহত হন। তিনি স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিমরাইল গ্রামের ট্রান্সফরমারটি গত ১৩ আগস্ট রাতে নষ্ট হয়ে যায়। এরপর থেকে পুরো গ্রাম বিদ্যুৎহীন। এর প্রায় এক মাস আগেও একই ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়েছিল। সে সময় নতুন ট্রান্সফরমারের বদলে একটি পুরোনো ট্রান্সফরমার বসানো হয়। সেটিও কিছুদিন পর আবার নষ্ট হয়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের ক্ষোভ বাড়তে থাকে।

গ্রামবাসীর অভিযোগ, ট্রান্সফরমার বদলের জন্য তারা একাধিকবার পিডিবি কার্যালয়ে যোগাযোগ করেও সমাধান পাননি। নতুন ট্রান্সফরমার দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিদ্যুৎ অফিসের লোকজনকে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন গ্রাহকেরা।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিমরাইল গ্রামের বাসিন্দা নূরুল হক বলেন, ১৩ আগস্ট রাতে ট্রান্সফরমার নষ্ট হওয়ার পর থেকে গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। প্রচণ্ড গরমে শিশু ও বয়স্কদের কষ্ট হচ্ছে। সেই সঙ্গে দেখা দিয়েছে পানির সংকট, ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও খাবার সংরক্ষণ। স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছেন।

আতিকুল ইসলাম ও জহিরুল ইসলাম নামের দুই বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, নতুন ট্রান্সফরমার পাওয়ার জন্য পিডিবির আবাসিক প্রকৌশলীকে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এক সপ্তাহ পার হলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। এ কারণেই বাধ্য হয়ে তারা কার্যালয়ে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

তবে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পিডিবির উপসহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিম। তিনি বলেন, ট্রান্সফরমারের জন্য ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন। তবে লাইন সংযোগ ও মেরামতের কাজে লাইনম্যানদের কিছু খরচাপাতি সব জায়গায় দেওয়া হয়।

হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, কিছু বুঝে ওঠার আগেই বিক্ষুব্ধ লোকজন আমার ওপর হামলা চালায়। রেজাউল করিমের দাবি, শিমরাইলের বাসিন্দারা নতুন ট্রান্সফরমার চেয়েছিলেন। কিন্তু পিডিবির সংশ্লিষ্ট বিভাগে ট্রান্সফরমার সংকট থাকায় পুরোনো একটি ট্রান্সফরমার দেওয়া হয়েছিল। মূলত এ নিয়েই ক্ষুব্ধ হয়ে তারা কার্যালয়ে হামলা চালিয়েছেন।

ঈশ্বরগঞ্জ পিডিবির আবাসিক প্রকৌশলী হামজা ইমাম জানান, শিমরাইল গ্রামের ট্রান্সফরমার নষ্ট হওয়ার বিষয়টি একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে সংকট থাকায় নতুন ট্রান্সফরমার পেতে সময় লেগেছে। গতকাল রাতে একটি পুরোনো ট্রান্সফরমার পাওয়া গেলেও তা মেনে নিতে না পেরে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হন। একপর্যায়ে তারা কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালান, যাতে উপসহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিম আহত হন।

এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় বিক্ষুব্ধ লোকজনকে সরিয়ে দেয়। দ্রুত ট্রান্সফরমার স্থাপন করে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিলে তারা ফিরে যান। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।