গোপালগঞ্জে পাটের বাজার চাঙা, দামে খুশি কৃষক

গোপালগঞ্জে পাটের ভালো ফলনের পর বাজারেও মিলছে সন্তোষজনক দাম। জেলার হাটবাজারে প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে চার হাজার ৭০০ থেকে পাঁচ হাজার ৩০০ টাকায়। গত বছরের তুলনায় এবার প্রতি মণে এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা বেশি দাম পাওয়ায় খুশি কৃষকরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে গোপালগঞ্জের পাঁচ উপজেলায় ২৫ হাজার ৬৮৬ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। উৎপাদিত হয়েছে ৫২ হাজার ৬৫৬ টন পাট। আবাদ ও উৎপাদন দুই ক্ষেত্রেই নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে জেলা।
আড়তদার ও কৃষকরা জানান, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর ও নড়াইল জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় ভাটিয়াপাড়া বাজারে চলে পাটের কেনাবেচা। নৌ, রেল ও সড়কপথে যোগাযোগের সুবিধা থাকায় তিন জেলার পাট এখানে আসে। দাম বাড়ায় বাজারে পাটের সরবরাহ ও কেনাবেচা বেড়েছে।
ভাটিয়াপাড়া বাজারের পাট ও ভূষিমাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নিয়ামূল হক শরীফ জানান, শুক্র ও সোমবার এ বাজারে হাট বসে। ভোর থেকে শুরু হওয়া কেনাবেচা সাধারণত সকাল ১০টার মধ্যে শেষ হয়। বাজারে ১২০টি পাটের আড়ত ও অন্তত ১০০টি গুদাম রয়েছে। বর্তমানে প্রতি হাটে এক হাজার থেকে দুই হাজার মণ পাট কেনাবেচা হচ্ছে।
কাশিয়ানীর বরাশুর গ্রামের কৃষক আজর আলী মোল্লা এবার ১৮০ শতাংশ জমিতে পাটের আবাদ করে ৫২ মণ পাট উৎপাদন করেছেন। এতে তার খরচ হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। তিনি বলেন, এ বছর প্রচুর বৃষ্টি হওয়ায় পাট জাগ দিতে সমস্যা হয়নি। এখন গত বছরের তুলনায় প্রতি মণে এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা বেশি দাম পাচ্ছেন। ভালো দাম অব্যাহত থাকলে আগামী বছর পাটের আবাদ বাড়াবেন।
বাজারের আড়তদার লিপ্টন শেখ জানান, মৌসুমের শুরুতে পাটকলগুলো পাট কেনা ও টাকা পরিশোধ বন্ধ রাখে। একই সময়ে মজুদদারদের আগ্রহ কমে যাওয়ায় তিন দফায় পাটের দাম কমে প্রতি মণ তিন হাজার ৫০০ থেকে তিন হাজার ৮০০ টাকায় নেমেছিল। বর্তমানে পাটকল ও মজুদদাররা প্রতি মণ পাট চার হাজার ৭০০ থেকে পাঁচ হাজার ৩০০ টাকা দরে কিনছেন। এতে বাজারে পাটের সরবরাহ ও বেচাকেনা বেড়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের গোপালগঞ্জ খামারবাড়ির উপপরিচালক ড. মো. মামুনুর রহমান বলেন, চলতি মৌসুমে জেলায় পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৪ হাজার ৮৫৯ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫০ হাজার ৯৬০ টন। বাস্তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮২৭ হেক্টর বেশি জমিতে আবাদ এবং এক হাজার ৬৯৬ টন বেশি পাট উৎপাদিত হয়েছে। খরচ বাদে প্রতি মণ পাট বিক্রি করে কৃষক এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত লাভ করছেন। বর্তমান দাম অব্যাহত থাকলে আগামী বছর জেলায় পাটের আবাদ আরও বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি।



