লাউয়াছড়ায় পর্যটকের ঢল, ঈদের চার দিনে রেকর্ড রাজস্ব আদায়

পবিত্র ঈদুল আজহার টানা ছুটিতে উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে অবস্থিত লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে। ঈদের দিন থেকে শুরু করে রোববার (৩১ মে) পর্যন্ত উদ্যানে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে মোট ৪ হাজার ১৮১ জন পর্যটক ভ্রমণ করেছেন। এতে প্রবেশ ফি বাবদ সরকারের মোট রাজস্ব আয় হয়েছে ৪ লাখ ৯৭ হাজার ৮৫২ টাকা।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ঈদের ছুটিতে যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি দূর করতে এবং প্রকৃতির সান্নিধ্য পেতে হাজারো মানুষ ছুটে এসেছেন এই চিরসবুজ বনে। চার দিনের পর্যটকদের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মোট আগন্তুকদের মধ্যে দেশি পর্যটকের সংখ্যাই বেশি হলেও এর মধ্যে ২৭ জন বিদেশি পর্যটকও ছিলেন।
উদ্যান কর্তৃপক্ষ জানায়, ঈদের দিন বিকেল থেকেই পর্যটকদের সমাগম বাড়তে থাকে, যা রোববার পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। বনের ভেতরের সুউচ্চ গাছপালা, বানর, উল্লুক আর চশমাপরা হনুমানের দেখা পেতে তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষ ভিড় জমান।
ঈদের ছুটির কয়েকদিন সরেজমিনে দেখা যায়, ঈদের দ্বিতীয় দিন, তৃতীয় দিন ও রোববার চতুর্থ দিন কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক ও শ্রীমঙ্গলের বদ্ধভূমির ৭১ পর্যটনকেন্দ্রতে পর্যটকের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধবী নিয়ে পর্যটকরা ভিড় করেন চা বাগানের সবুজ অরণ্যে। লাউয়াছড়া বনের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া পাহাড়ি পথ আর উঁচু-নিচু টিলার মাঝে সময় কাটাতে পেরে উচ্ছ্বসিত দর্শনার্থীরা। বিশেষ করে শিশু ও তরুণ-তরুণীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক রাজু আহমেদ, সিলেটের মারুফ রহমান, চট্টগ্রামের জয়দ্বীপ চক্রবর্র্তী, সুমন মিয়া বলেন, ঈদে সিলেটেই ঘুরতে আসা হয়। চা বাগানে ঘুরেছি। লাউয়াছড়ায় আগেও আসা হয়েছে, এখানে বার বার আসতে মন চায়।
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যুর গাইড শাহিন আহমেদ জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদে পর্যটকদের ভিড় ছিল। পর্যটকদের নিরাপত্তা ও বনের পরিবেশ সুরক্ষায় বন বিভাগ ও ট্যুরিস্ট পুলিশের বিশেষ নজরদারি ছিল। চার দিনে প্রায় ৫ লাখ টাকার রাজস্ব আদায় বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের জন্য একটি বড় ইতিবাচক দিক।
উদ্যানের টিকেট কালেক্টর অজানা আহমেদ কামরান এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে পর্যটকের ভীড় জমেছে। ঈদের চার দিনেই লাউয়াছড়ায় চার হাজারের বেশি পর্যটক ভ্রমণ করেছেন। এতে সরকারেরর রাজস্ব আয় হয়েছে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা। বনের পরিবেশ রক্ষা এবং পর্যটকদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিতে বনকর্মী ও সিপিজি সদস্যরা সার্বক্ষণিক কাজ করেছেন।’
ট্যুরিস্ট পুলিশ শ্রীমঙ্গল জোনের উপ-পরিদর্শক আশ্রাফুল আলম বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি পর্যটনকেন্দ্রে ট্যুরিস্ট পুলিশ দায়িত্বে আছে। যে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রস্তুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।’
