logo

তীব্র গরমে ফেনীতে কদর বেড়েছে তালের শাঁসের

তীব্র গরমে ফেনীতে কদর বেড়েছে তালের শাঁসের
ছবি: এশিয়া পোস্ট

তীব্র গরমে যখন জনজীবন অতিষ্ঠ ও হাঁসফাঁস, ঠিক তখনই ফেনীজুড়ে স্বস্তির বার্তা হয়ে উঠেছে মৌসুমি ফল তালের শাঁস। চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের দাপটে ক্লান্ত মানুষ শরীর ঠান্ডা রাখতে ছুটছেন প্রাকৃতিক এই শীতল খাদ্যের দিকে। ফলে জেলার বিভিন্ন উপজেলা, হাট-বাজার ও সড়কের পাশজুড়ে ব্যাপক হারে বেড়েছে তালের শাঁস বিক্রেতাদের আনাগোনা।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় ঘুরে ঘুরে গৃহস্থের কাছ থেকে কচি তাল কেনেন ব্যাপারীরা। পরে বাজারে এনে কচি তাল কেটে শাঁস বের করে বিক্রির প্রস্তুতি নেন বিক্রেতারা। দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে ক্রেতার ভিড়। বিশেষ করে দুপুরের প্রখর রোদে তৃষ্ণা মেটাতে পথচারী থেকে শুরু করে সব বয়সি মানুষ ভিড় করছেন এসব অস্থায়ী দোকানে।

জেলার সোনাগাজী উপজেলার কুঠির বাজারের ঈদগাহের পাশে বসা বিক্রেতা হৃদয় এশিয়া পোস্টকে জানান, এবার গরমের তীব্রতা বেশি হওয়ায় তালের শাঁসের চাহিদা অনেক বেড়েছে। প্রতিটি তালে দুই থেকে তিনটি শাঁস পাওয়া যায়। আকার অনুযায়ী একটি বড় তাল ৫০ টাকা ও ছোটগুলো ৩০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। প্রতিদিন বিক্রি বেশ ভালো হচ্ছে, ফলে লাভও ভালো থাকছে।

বাজারে আসা ক্রেতা পারভেজ আহমেদ এশিয়া পোস্টকে জানান, তালের শাঁস শুধু সুস্বাদুই নয়, এটি গরমে শরীরকে তাৎক্ষণিক ঠান্ডা রাখতে অত্যন্ত কার্যকর। অনেকেই নিজে খাওয়ার পাশাপাশি পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের জন্যও এটি কিনে বাড়ি নিয়ে যান; তিনিও বাড়ির জন্য নিচ্ছেন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, তালের শাঁসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে জলীয় অংশ ও প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান, যা গ্রীষ্মকালে শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে দারুণ সহায়ক। কৃত্রিম পানীয়র চেয়ে গ্রীষ্মের দাবদাহে প্রাকৃতিকভাবে শরীরকে সতেজ রাখতে এটি অন্যতম সেরা বিকল্প হতে পারে।

গ্রীষ্মের এই সময়ে মৌসুমি ফল তালের শাঁস একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের তৃষ্ণা ও ক্লান্তি নিবারণ করছে, অন্যদিকে জেলার বহু ক্ষুদ্র ও মৌসুমি ব্যবসায়ীর জীবিকাতেও এনেছে নতুন গতি। গরমের তীব্রতা আরও বাড়লে এর চাহিদা এবং বিক্রি দুটোই আরও বাড়বে বলে আশা করছেন স্থানীয় বিক্রেতারা।