logo

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় ৬৫ বছরের বৃদ্ধা কারাগারে

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় ৬৫ বছরের বৃদ্ধা কারাগারে
নূরজাহান বেগম। ছবি : এশিয়া পোস্ট

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা এক মামলায় নূরজাহান বেগম (৬৫) নামে এক বৃদ্ধাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ী ইউনিয়নের নলকোলা গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার নূরজাহান বেগম নলকোলা গ্রামের মো. সেলিম আহমেদের স্ত্রী।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ সেপ্টেম্বর ইবি থানায় দায়ের করা একটি জিআর মামলায় নূরজাহান বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের দাবি, তিনি নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী এবং মামলায় উল্লেখিত কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া জামিন পেলে মামলার তদন্ত ব্যাহত হতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কার কথাও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

তবে নূরজাহানের পরিবারের দাবি, সামাজিক ও জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে তাদের বাড়ি ও গুদামে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নূরজাহান বেগম বাদী হয়ে গত ২১ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়ার আদালতে একটি মামলা করেন। ওই মামলায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও কৃষক দলের ২২ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ১৫ থেকে ৩০ জনকে অজ্ঞাতনামাকি দিয়ে আসছিলেন। পরিবারের ভাষ্য, মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

নূরজাহানের মেয়ে সেলিনা আক্তার শিল্পীর অভিযোগ, আদালতে মামলা করার পর থেকেই স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা তার মাকে মামলা তুলে নিতে চাপ ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন। রোববার সকালে রান্নার প্রস্তুতির সময় ইবি থানা ও পাটিকাবাড়ী পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা বাড়িতে গিয়ে জানান, ওসি তার সঙ্গে কথা বলতে চান। পরে নারী পুলিশ সদস্যরা তাকে নিয়ে যান।

নুরজাহানের ছেলে রুহুল আমিন বলেন, আমি বর্তমানে পলাতক। আমার বৃদ্ধ মাকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে। পরে জানতে পারি, তাকে সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মামুনুর রশিদ বলেন, পার্টি অফিস ভাঙচুরে ব্যবহৃত সরঞ্জাম সরবরাহের অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় অজ্ঞাত আসামি হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।