logo
Advertisement

ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু নিয়ে মিথ্যাচারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ

ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু নিয়ে মিথ্যাচারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ
ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু নিয়ে মিথ্যাচারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করে ‘ময়মনসিংহ মঞ্চ’। ছবি: এশিয়া পোস্ট

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হতাহত নিয়ে ‘মিথ্যাচারের’ অভিযোগ তুলে বিভাগীয় কমিশনার, হাসপাতালের পরিচালক ও উপপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অপসারণের দাবি জানিয়েছে নাগরিক সংগঠন ‘ময়মনসিংহ মঞ্চ’। একই সঙ্গে প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি বাতিল করে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন এবং নিহত প্রত্যেকের পরিবারের জন্য সরকারি কোষাগার থেকে এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এসব দাবি জানানো হয়। হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা দূর করা এবং অগ্নিকাণ্ডে হতাহত নিয়ে কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের বক্তব্যের প্রতিবাদে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

সমাবেশে ময়মনসিংহ মঞ্চের সমন্বয়ক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, অগ্নিকাণ্ডের পর প্রশাসনের কর্মকর্তারা হাসপাতালে কেউ নিহত বা আহত হননি বলে বক্তব্য দিয়েছিলেন। পরে সাংবাদিকদের প্রতিবেদনে হতাহত হওয়ার তথ্য সামনে আসে। এ কারণে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, সত্যকে ধামাচাপা দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। এই নৈতিক স্খলনের দায়ে বিভাগীয় কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ময়মনসিংহ থেকে অপসারণ করতে হবে। নিহতদের প্রত্যেক পরিবারের জন্য রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে এক কোটি টাকা করে অনুদান এবং আহত ব্যক্তিদের বিনা মূল্যে বিশেষায়িত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার দাবি জানাচ্ছি। একইসঙ্গে হাসপাতালের সব অব্যবস্থাপনা দ্রুত দূর করার আহ্বান জানাচ্ছি।

অগ্নিকাণ্ডের সময় হাসপাতালের সিঁড়িগুলো বন্ধ থাকার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন ইমতিয়াজ আহমেদ। তিনি বলেন, সেদিন মাত্র একটি সিঁড়ি খোলা ছিল, বাকি চারটি সিঁড়ি তালাবদ্ধ ছিল। আটতলায় আগুন লাগার পর সাততলা থেকে রোগী ও স্বজনেরা নামতে শুরু করেন। একটি সিঁড়ি দিয়ে এত মানুষ কীভাবে নামবে?

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে প্রশাসনের গঠিত কমিটিগুলো গ্রহণ না করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা কোনো প্রশাসনিক তদন্ত কমিটি মানি না। উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। অগ্নিকাণ্ডে কতজন নিহত ও আহত হয়েছেন, তার সঠিক তথ্য জনগণের সামনে প্রকাশ করতে হবে।

এর আগে এর আগে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের ৮তলায় লিফল কন্ট্রোল রুম অতিরিক্ত গরম হয়ে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয় বলে ধারণা করে ফায়ার সার্ভিস। ঘটনার সময় আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রচণ্ড ধোঁয়া বের হতে থাকে। পরে ফায়ার সার্ভিসের প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন ও ধোঁয়া সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় পুলিশের তথ্যে ছয়জন মারা যাওয়া খবর সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত হয়। পরে চারজনের মৃত্যুর তথ্য সামনে এলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন দুজনের আগুনের আতঙ্কে আহত হওয়ার কথা স্বীকার করে।

এদিকে হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার দিন সোমবার রাতেই পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এতে কমিটির প্রধান করা হয় হাসপাতালের ইউনিট প্রধান (মেডিসিন) অধ‍্যাপক ডা. গোলাম রহমানকে। কমিটির অন্য সদস্যরা ছিলেন হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান, ময়মনসিংহ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী অর্ণব বিশ্বাস, গণপূর্ত বিভাগের আওতাধীন নেত্রকোনার কেন্দুয়ার উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী (ই/এম) মো. মাজেদুর রহমান ও ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ময়মনসিংহের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী।

হাসপাতালের লিফটগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার দায়িত্ব গণপূর্ত অধিদপ্তরের। হাসপাতালের লিফট কন্ট্রোল রুমে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত কমিটিতে ময়মনসিংহ গণপূর্ত বিভাগের দুই কর্মকর্তাকে রাখায় আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়। সঠিক তদন্ত হবে কিনা এ নিয়ে সচেতন মহল প্রশ্ন তোলেন। এরইমধ্যে সমালোচনার মুখে পাঁচ সদস্যের কমিটি বাতিল করে গত মঙ্গলবার নতুন ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। আগের কমিটিতে থাকা ময়মনসিংহ গণপূর্ত বিভাগের দুই কর্মকর্তার নাম বাদ দেওয়া হয়।

নতুন কমিটিতে হাসপাতালের ইউনিট প্রধান (মেডিসিন) অধ‍্যাপক ডা. গোলাম রহমানকে সভাপতি ও হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খানকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ময়মনসিংহের বিক্রি ও বিতরণ বিভাগ-২ দক্ষিণের নির্বাহী প্রকৌশলী, হাসপাতালের ডেন্টাল সার্জন ডা. মোহাম্মদ খন্দকার মো. আনোয়ার হোসেন ও ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ময়মনসিংহের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তির গাফিলতি থাকলে তার কারণ উদঘাটন ও প্রয়োজনীয় সুপারিশ, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটার প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও অগ্নিকাণ্ডের

ক্ষয়-ক্ষতি নিরুপনসহ সার্বিক বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।

অগ্নিকাণ্ডের পরদিন মঙ্গলবার পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করে জেলা প্রশাসন। কমিটিতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামানকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। পাঁচ সদস্যের এই কমিটিকে অগ্নিকাণ্ডের কারণ, ক্ষয়ক্ষতি এবং ঘটনার সার্বিক বিষয় তদন্ত করে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।