Advertisement

ধর্ষণে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা বাকপ্রতিবন্ধী তরুণী, আদালতে অভিযোগ

এশিয়া পোস্ট নিউজ, নোয়াখালী
ধর্ষণে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা বাকপ্রতিবন্ধী তরুণী, আদালতে অভিযোগ
নোয়াখালী জেলা জজ আদালত। ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় এক বাকপ্রতিবন্ধী তরুণীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে উঠেছে। তরুণী বর্তমানে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়েছেন বলে মেডিকেল রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে তরুণীর মা নোয়াখালীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ মামলার আবেদন করেছেন।

বাদী পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শামসুল আলম শাফি জানান, বিচারক ফাতেমা ফেরদৌসী মামলা নথিভুক্ত করে ভুক্তভোগীর গর্ভের সন্তানের পিতৃত্ব নির্ণয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য কবিরহাট থানাকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার আবেদনে প্রধান আসামি হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে কবিরহাটের চর এলাহি ইউনিয়নের চর যাত্রা গ্রামের মোস্তফার ছেলে মো. ইউছুফকে।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত বছরের ১০ ডিসেম্বর রাত ৮টার দিকে খাস মন্ডলিয়া বাজারের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে একটি সুপারি বাগানের পাশে ইউছুফ ভুক্তভোগী তরুণীর মুখে গামছা চেপে ধরে টেনে নিয়ে ধর্ষণ করে। ঘটনা কাউকে জানালে ভুক্তভোগী ও তার মাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন ইউছুফ। পরে বিয়ের আশ্বাস ও আর্থিক লোভ দেখিয়ে আরও একাধিকবার ভুক্তভোগীকে ধর্ষণ করা হয়।

শারীরিক পরিবর্তন দেখে স্থানীয় ফার্মেসি ও পরে মাইজদী একটি বেসরকারি হাসপাতালে আল্ট্রাসোনোগ্রাম করলে ভুক্তভোগী তরুণী ২৮ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা বলে চিকিৎসকরা জানান। জানাজানি হলে স্থানীয়রা অভিযুক্তের বিচারের দাবিতে গত ২৩ জুলাই খাস মন্ডলিয়া বাজারে একটি মানববন্ধন আয়োজন করেন।

অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা অভিযুক্তকে রক্ষায় ভুক্তভোগীর পরিবারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। তাদের হুমকি-ধমকি দিয়ে অভিযুক্তকে রক্ষা করতে বিভিন্ন ব্যক্তিকে জড়িয়ে বিচারকে ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ভুক্তভোগীর মা গত ২৯ জুলাই কবিরহাট থানায় মামলা করতে গেলে থানা থেকে আদালতে মামলা দায়েরের পরামর্শ দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-০২-এ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধারায় এই মামলার আবেদন করেন।

আইনজীবী মোহাম্মদ শামসুল আলম শাফি জানান, ভুক্তভোগী প্রতিবন্ধী হওয়ায় এবং হতদরিদ্র পরিবারের হওয়ায় বিষয়টি সামাজিকভাবে নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়। ভুক্তভোগী পরিবারের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে স্থানীয় একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি বিষয়টিকে অন্য খাতে নেওয়ার চেষ্টা চালান।

এ বিষয়ে কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া বলেন, এ সংক্রান্ত একটি মামলার খবর পেয়েছি। আদালতের নির্দেশনার কপি এখনও থানায় আসেনি।

তিনি আরও বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ভুক্তভোগীর সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।