রাষ্ট্রপতি জিয়াকে কোদাল নিয়ে কাজ করতে দেখে অবাক হয়েছিলাম

‘রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আমাদের সঙ্গে কোদাল চালিয়েছেন, মাথায় করে মাটি ফেলেছেন, আবার আমাদের সঙ্গেই বসে ভাত খেয়েছেন। এত বড় একজন মানুষকে এভাবে কাজ করতে দেখে আমরা অবাক হয়েছিলাম।’ কথাগুলো বলছিলেন কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের পাতলী গ্রামের বাসিন্দা ৮৫ বছর বয়সী ছৈয়দ নূর। প্রায় ৪৭ বছর আগের সেই দিনের স্মৃতি আজও তার চোখে ভাসে।
১৯৭৯ সালের ৪ ডিসেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের সঙ্গে স্বেচ্ছাশ্রমে পাতলী খাল খননের কাজে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। স্মৃতিবিজড়িত সেই পাতলী খালই দীর্ঘ ৪৭ বছর পর আবারও পুনঃখননের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শনিবার (১৩ জুন) সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খালটির পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন।
কক্সবাজার শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়ন। এখানকার কৃষিনির্ভর মানুষের কাছে পাতলী খাল ইতিহাসের অংশ। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, একসময় শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট ও বর্ষাকালে জলাবদ্ধতায় কৃষকরা বিপাকে পড়তেন। সেই সমস্যা সমাধানে জিয়াউর রহমান স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে খাল খননের উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
সেদিনের আরেক প্রত্যক্ষদর্শী উত্তর পাতলী গ্রামের সোলতান আহমদ (৭৮)। তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের জন্য আলাদা খাবারের ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু তিনি শ্রমিকদের সঙ্গে মাটির পাত্রে ভাত খেয়েছিলেন। সেদিন হাজার হাজার মানুষ খাল কাটার কাজে অংশ নিয়েছিল। এমন দৃশ্য জীবনে আর দেখিনি।’
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কালের পরিক্রমায় খালটি ভরাট ও সংকুচিত হয়ে তার কার্যকারিতা হারায়। ফলে কৃষিকাজ ও সেচ ব্যবস্থায় নানা সমস্যা দেখা দেয়। স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরে খালটি পুনঃখননের জন্য দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. সালাউদ্দিন বলেন, ‘প্রায় ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালটি পুনরুদ্ধার ও পুনঃখননের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচ সুবিধার উন্নয়ন এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হবে।’
স্থানীয় মিয়াজিপাড়া এলাকার বাসিন্দা শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘বাপ-দাদাদের কাছ থেকে শুনেছি, এই খাল খননের পর এলাকায় কৃষিতে বড় পরিবর্তন এসেছিল। এখন আবার খালটি খনন হলে কৃষকরা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন।’
পিএমখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শহীদুল্লাহ বলেন, ‘খাল খননের দিনটি ছিল ঐতিহাসিক। মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ পুরো এলাকাকে উৎসবমুখর করে তুলেছিল। পরে খালটি দেখতে তৎকালীন বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট রবার্ট ম্যাকনামারা এবং নেপালের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীও এসেছিলেন।’
কক্সবাজার-৩ (সদর, রামু ও ঈদগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের কোদাল হাতে মাটি কাটার যে ছবি দেশজুড়ে পরিচিতি পেয়েছিল, জনশ্রুতি রয়েছে সেটি পাতলী খাল খননের সময়ই তোলা হয়েছিল। তাই খালটি শুধু উন্নয়ন প্রকল্প নয়, এটি একটি ঐতিহাসিক স্মৃতিচিহ্নও।’
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে পিএমখালীর মাইজপাড়া ও গোলারপাড়ার মধ্যবর্তী এলাকায় ৫০ ফুট দীর্ঘ মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয় নেতাদের আশা, অনুষ্ঠানে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হবে।
পিএমখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হারুনুর রশিদ জানান, এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে একটি কলেজ, অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ পাতলী খাল শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নামে নামকরণ করার দাবি জানানো হবে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে পুরো কক্সবাজারে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে জানিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. অহিদুর রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় তিন হাজারের বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে জেলার বাইরে থেকে আনা অতিরিক্ত সদস্যও রয়েছেন। পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও মাঠে থাকবেন।’
