logo

ফরিদপুরে বেপরোয়া বেদে নারীরা, টাকা না দিলে পথচারীদের টানাহেঁচড়া-হয়রানি

তাওহিদুল ইসলাম
ফরিদপুর
ফরিদপুরে বেপরোয়া বেদে নারীরা, টাকা না দিলে পথচারীদের টানাহেঁচড়া-হয়রানি
পথচারীদের আটকে টাকা আদায় করে বেদে নারীচক্র। ছবি: এশিয়া পোস্ট

ফরিদপুর শহরের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ ও ব্যস্ততম সড়কগুলোতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বেদে সম্প্রদায়ের একদল নারী। পথচারীদের আটকে জোরপূর্বক টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। শহরের আলিপুর মোড়, ১১ তলা ভবনসংলগ্ন এলাকা, জনতা ব্যাংক মোড় ও চকবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে দিনের পর দিন এমন ঘটনা ঘটলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রামাঞ্চল থেকে কেনাকাটা বা জরুরি কাজে আসা সাধারণ মানুষই মূল লক্ষ্য। পথচারীদের থামিয়ে টাকা চাওয়া হয়। দিতে অস্বীকৃতি জানালে ঘিরে ধরা, পথ আটকে দাঁড়ানো এবং কাপড় ধরে টানাহেঁচড়া করে চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলা হয়। জিম্মি দশা ও জনসম্মুখে অপমান এড়াতে অনেকেই বাধ্য হয়ে টাকা দিয়ে সেখান থেকে রক্ষা পান। বিশেষ করে বয়োজ্যেষ্ঠ, নারী ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষ এতে মারাত্মক বিড়ম্বনায় পড়ছেন।

ফরিদপুর সদর উপজেলার একটি গ্রাম থেকে আসা ভুক্তভোগী ফাহিম শেখ বলেন, শহরে ঢোকার পরই কয়েকজন নারী আমাকে ঘিরে ধরে টাকা দাবি করেন। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে টাকা দিতে হয়েছে। ফলে কেনাকাটা শেষে বাড়ি ফেরার ভাড়া নিয়ে চিন্তায় পড়ে যাই।

আরেক ভুক্তভোগী সদর উপজেলার মমিন খারহাট এলাকার রুস্তম ব্যাপারীও একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান। তার দাবি, শহরে জরুরি কাজে এসে তাকে ঘিরে টাকা চাওয়া হয় এবং শেষ পর্যন্ত টাকা দিতে বাধ্য হন তিনি।

শহরের আলিপুর এলাকার বাসিন্দা রাহুল শেখ অভিযোগ করে জানান, তাকেও টানাহেঁচড়া করে টাকা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, একদিকে তারা নারী, অন্যদিকে বিষয়টি প্রকাশ্যে ঘটায় লজ্জা-শরমের। এ কারণে অনেকে প্রতিবাদ করতে পারেন না। পুরুষ মানুষকে এভাবে টানাহেঁচড়া করলে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়েই টাকা দিতে হয়।

তবে অভিযুক্তদের পক্ষে ভিন্ন সুর শোনা গেছে। শহরের মুন্সিবাজার এলাকার বেদেপল্লির কয়েকজন নারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা পেটের দায়ে মানুষের কাছে সাহায্য চাই। কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় সংসার চালানো ও সন্তানদের খরচ মেটাতে রাস্তায় নামতে হয়। কাউকেও হয়রানি করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। প্রশাসন যদি বিকল্প কর্মসংস্থান বা পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে, তবে আমরা রাস্তায় আসা ছেড়ে দেব।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, ট্রাফিক পুলিশের উপস্থিতিতেই প্রকাশ্যে এই পথরোধ ও অর্থ আদায়ের ঘটনা ঘটছে। আলিপুর মোড়ে দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক সার্জেন্ট (টিএসআই) শেখ তুহিন বলেন, প্রতিদিনই এমন ঘটনা ঘটে। সাধারণ মানুষকে যেভাবে টেনে-হিঁচড়ে টাকা আদায় করা হয়, তা অত্যন্ত কষ্টদায়ক। আমি একাধিকবার বাধা দিয়েছি, কিন্তু বারণ করলে তারা আমাদের মা-বোন তুলে গালাগালি শুরু করে। অপ্রীতিকর পরিবেশ এড়াতে অনেক সময় এড়িয়ে যেতে হয়।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুল হাসান এশিয়া পোস্টকে বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাইনি। তবে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে টহল দল নিয়মিত কাজ করছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া এশিয়া পোস্টকে জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। শহরের মুন্সিবাজার এলাকায় বেদে সম্প্রদায়ের মানুষকে কোনো সরকারি সহায়তার আওতায় আনা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। তাদের বিশেষ আর্থিক সহযোগিতার প্রয়োজন হলে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করার সুযোগ রয়েছে।