চামড়া নিয়ে বিপদে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় কোরবানির পশুর চামড়ার বাজার এবার কার্যত ভেঙে পড়েছে। কোথাও ৫০ টাকা, কোথাও ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ২০০ টাকায় গরুর চামড়া বিক্রি হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন মৌসুমি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। এতে হতাশা নেমে এসেছে ব্যবসায়ী ও কোরবানিদাতাদের মধ্যে।
ঈদুল আজহার দিন ও পরদিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পশু জবাইয়ের পর চামড়া কেনাবেচা শুরু হয়। তবে কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে অনেক ব্যবসায়ীই লোকসানের মুখে পড়েন। পর্যাপ্ত সংরক্ষণ ব্যবস্থা না থাকায় বিভিন্ন স্থানে চামড়ার স্তূপ পড়ে থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর উপজেলায় কোরবানিযোগ্য পশুর চাহিদা ছিল ৫ হাজার ৬০০টি। এর বিপরীতে প্রস্তুত ছিল ৫ হাজার ১২২টি পশু। এর মধ্যে ছিল ২ হাজার ১৮৫টি ষাঁড়, ৪৭৭টি বলদ, ৭২১টি গাভী, ৮টি মহিষ, ১ হাজার ২২৬টি ছাগল ও ১০৯টি ভেড়া।
সরকার ঢাকার বাইরে লবণযুক্ত কাঁচা গরুর চামড়ার সর্বনিম্ন দাম প্রতি বর্গফুট ৫৭ থেকে ৬২ টাকা এবং খাসির চামড়া ২৫ থেকে ৩০ টাকা নির্ধারণ করলেও বাস্তব বাজারে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।
দাম না পাওয়ায় অনেক কোরবানিদাতা চামড়া বিক্রি না করে মাদরাসা ও এতিমখানায় দান করেছেন। ছেংগারচর পৌর এলাকার জোরখালী গ্রামের সুমন আহমেদ বলেন, দেড় লাখ টাকার গরু কোরবানি দিয়েও চামড়ার দাম পান মাত্র ১৫০ টাকা। পরে তিনি তা এতিমখানায় দান করে দেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ঘনিয়ারপাড় চৌরাস্তা ব্রিজসহ বিভিন্ন স্থানে শত শত চামড়া ফেলে রাখা হয়েছে। পচে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে আশপাশে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মানিক মিয়া বলেন, ২৫ বছর ধরে ব্যবসা করলেও এবার সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন তিনি। ঢাকা থেকে পাইকার না আসায় প্রায় ৭০ হাজার টাকার চামড়া কিনে বিপাকে পড়েছেন।
আরেক ব্যবসায়ী হান্নু মোল্লা জানান, এবার তার লোকসান ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার মতো হতে পারে।
ষাটনল এলাকার ব্যবসায়ী সাহিন মিয়া প্রায় ১০০টি চামড়া সংগ্রহ করে ৩০০ টাকা করে কিনলেও বাজারে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা দাম পাওয়ায় তিনি বিক্রি করতে পারেননি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কম দামে চামড়া বিক্রির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
