logo

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দৌরাত্ম্যে নাজেহাল কুমিল্লাবাসী

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দৌরাত্ম্যে নাজেহাল কুমিল্লাবাসী
ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা নগরীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বেপরোয়া চলাচল, চালকদের প্রশিক্ষণের অভাব এবং সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধির ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন মহলে এখন অটোরিকশার নিয়ন্ত্রণহীন চলাচল নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। নগরবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নগরীতে চলাচলকারী অনেক অটোরিকশার বৈধ কাগজপত্র নেই। একই সঙ্গে অনেক চালকের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও ড্রাইভিং দক্ষতারও অভাব রয়েছে। অভিযোগ আছে, কিছু চালক মাদকাসক্ত অবস্থায় গাড়ি চালান। আবার কেউ কেউ ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। ফলে পথচারী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীদের প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

সম্প্রতি নগরীর নিউমার্কেট এলাকায় একটি অটোরিকশার ধাক্কায় এক ব্যক্তি নিহত হন। এ ছাড়া ঈদের দিন ঠাকুরপাড়া বড় মসজিদের পাশে অটোরিকশার চাপায় এক শিশুর মৃত্যু হয়। এসব ঘটনায় নগরবাসীর মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

ঈদের আগে আবুবকর ছিদ্দিক নামের এক তরুণ নগরীর পূবালী চত্বর ও টাউন হলের সামনে প্ল্যাকার্ড হাতে একক অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। তিনি অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান। তার এই উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলে। বর্তমানে অনেকেই ‘অটোরিকশা হটাও, নগর বাঁচাও’ স্লোগান তুলে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছেন।

নগরবাসী ফখরুল ইসলাম মিঠু বলেন, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের আওতায় সব অটোরিকশা ও চালককে নিবন্ধনের আওতায় আনা, লাইসেন্স নিশ্চিত করা এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা জরুরি। পাশাপাশি ফিটনেসবিহীন ও অবৈধ অটোরিকশার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন।

ভুক্তভোগী আলমগীর খান বলেন, গত রমজানে তালপুকুরপাড় এলাকায় ফাঁকা রাস্তায় একটি অটোরিকশা আমার মাকে দেয়ালের সঙ্গে চাপা দেয়। এতে তার কাঁধের হাড় ভেঙে যায়। এখনো তিনি ভোগান্তিতে আছেন। রাস্তা পার হতেও ভয় লাগে। অনেক চালক এমনভাবে গাড়ি চালান, যেন রাস্তা তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি। নিয়ম মেনে চলাচলকারীরাই উল্টো অসহায় হয়ে পড়েন।

কান্দিরপাড় এলাকার বাসিন্দা মোস্তফা কামাল বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের সামনে অটোরিকশার অবাধ চলাচলের কারণে প্রায়ই তীব্র যানজট তৈরি হয়। এতে জরুরি সেবাও ব্যাহত হয়। বিশেষ করে স্কুল ছুটির সময় ও অফিস শেষে নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়।

কুমিল্লার সচেতন নাগরিক আন্দোলন বাংলাদেশের সভাপতি ডা. আতিকুল ইসলাম বলেন, শুধু অভিযান চালিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে চালকদের প্রশিক্ষণ, রুট নিয়ন্ত্রণ, লাইসেন্স নিশ্চিতকরণ এবং ট্রাফিক আইন বাস্তবায়ন করা গেলে নগরীতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

এ বিষয়ে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, নগরীতে যানজট নিরসন ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে মিশুক ও অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে শিগগিরই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি চালকদের নিবন্ধন ও শৃঙ্খলার আওতায় আনার বিষয়েও কাজ চলছে।