জমি কিনেও মিলছে না চলাচলের পথ, দুই সন্তান নিয়ে দুর্ভোগে প্রবাসীর স্ত্রী

জমি আছে, মাথা গোঁজার মতো নিজস্ব ভিটাও আছে; নেই শুধু নিজের ঘর থেকে বের হওয়ার রাস্তা। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, বাড়ি থেকে প্রধান সড়কে যাতায়াতের জন্য জমি কেনা হলেও প্রভাবশালীদের বাধার মুখে পথ তৈরি করতে পারছেন না তারা। ফলে দুই সন্তান নিয়ে জলাবদ্ধ ক্ষেত পেরিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে নাসিমা আক্তারকে।
মাদারীপুর সদর উপজেলার পেয়ারপুর গ্রামের বাসিন্দা নাসিমা আক্তারের স্বামী নুরুল হক মাতুব্বর জীবিকার তাগিদে থাকেন প্রবাসে। স্বামীর অনুপস্থিতিতে দুই সন্তানকে নিয়ে বাড়িতে একাই থাকেন তিনি। নাসিমা আক্তারের দাবি, বাড়ি থেকে বের হওয়ার জন্য তার স্বামী জমি কিনেছেন। কিন্তু সেই জমি দিয়ে চলাচল করতে পারছেন না। বাধ্য হয়ে জলাবদ্ধ ক্ষেতের মধ্য দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, দুই সন্তানকে নিয়ে প্রতিদিন অনেক কষ্ট করতে হয়। তাদের স্কুলে যাওয়া-আসা থেকে শুরু করে সংসারের প্রয়োজনীয় সব কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে। আমি চাই, প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত করে আমাদের বাড়ি থেকে বের হওয়ার পথের ব্যবস্থা করে দিক।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, মাদারীপুর সদর উপজেলার ৭৬ নম্বর পেয়ারপুর মৌজার বিআরএস ৭৫৮ নম্বর খতিয়ানের ৪৯৫ নম্বর দাগে থাকা ৪১ শতাংশ জমির মধ্য থেকে দুই শতাংশ জমি ২০২১ সালে রাস্তার জন্য ছিদ্দিক মাতুব্বরের কাছ থেকে কেনেন নাসিমা আক্তারের স্বামী নুরুল হক মাতুব্বর। বাড়ি থেকে বের হতে পথ তৈরি করতেই জমিটি কেনা হয়। কিন্তু ছিদ্দিক মাতুব্বরের ভাতিজা সাবেক ইউপি সদস্য আশরাফ মাতুব্বর জমিটি নিজের দখলে রেখে চলাচলে বাধা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি পথ বন্ধ করে বেড়া দেওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহানুর মাতুব্বর, বৈশাখী বাড়ৈ, সেলিম হোসেন, শিউলি আক্তার, রেশমা বেগম ও রুবায়েত হোসেন জানান, বিষয়টি নিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ রয়েছে। একটি পরিবারের নারী ও শিশুদের এভাবে দুর্ভোগ পোহাতে হবে, এটা আমরা চাই না। সরকার ও প্রশাসনের কাছে দাবি, বিষয়টি তদন্ত করে ন্যায়সংগত সমাধান করা হোক। স্থানীয়দের কেউ কেউ আশরাফ মাতুব্বরের বিরুদ্ধে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে খারাপ আচরণের অভিযোগও করেছেন।
জমির দাতা ছিদ্দিক মাতুব্বর বলেন, মানবিক দিক বিবেচনা করে বাড়িতে যাতায়াতের সুবিধার জন্য তিনি দুই শতাংশ জমি বিক্রি করেছিলেন। কিন্তু তার ভাইয়েরা সেখানে রাস্তা নির্মাণে বাধা দিচ্ছেন। এ নিয়ে তাকেও বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে বলে জানান।
অভিযোগের বিষয়ে সাবেক ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা আশরাফ মাতুব্বর বলেন, তিনি জমিটি পুনরায় কিনেছেন এবং এ বিষয়ে আদালতে সমাধান করবেন।
মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, জমির মালিকানা ও চলাচলের অধিকারসংক্রান্ত বিরোধের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকিয়া সুলতানা বলেন, কেউ কারও চলাচলের পথ আটকে রাখতে পারেন না, এটা বেআইনি। সরেজমিনে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে দেখে একটা সমাধান করব। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার আমাদের কাছে অভিযোগ দিয়ে গেছে।

