বিদ্যুৎ-গ্যাসে ৭ মাসের ভর্তুকি এক মাসেই দিতে হয়েছে: গণপূর্তমন্ত্রী

গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন বলেছেন, দেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাস নিয়ে কিছুটা সংকট রয়েছে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং অর্থনৈতিক নানা চাপের কারণে এ সংকট তৈরি হয়েছে। গ্যাসের জন্য সরকার যে ভর্তুকি দেয়, গত সাত মাসের সমপরিমাণ ভর্তুকির অর্থ এক মাসেই পরিশোধ করতে হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপি আয়োজিত দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের কয়েকটি দেশে যুদ্ধ চলছে এবং পরাশক্তিগুলো নিজেদের খেলায় ব্যস্ত রয়েছে। এর প্রভাব আমাদের ওপরও পড়ছে। যে গ্যাসের জন্য আমরা প্রতি বছর ভর্তুকি দিই, গত সাত মাসের সেই ভর্তুকি এক মাসেই দিতে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গত ফ্যাসিস্ট সরকার ব্যাংকগুলো খালি করে দিয়ে গেছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী দিনে ১৭-১৮ ঘণ্টা কাজ করে যাচ্ছেন। অধিকাংশ মন্ত্রী-এমপি সংকট মোকাবিলায় আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আমরা এখন স্রোতের বিরুদ্ধে সাঁতার কাটছি। তবে ইনশাআল্লাহ, এ সংকটও আমরা কাটিয়ে উঠব।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী প্রসঙ্গে জাকারিয়া তাহের সুমন বলেন, গত ১৬-১৭ বছর বিএনপির নেতাকর্মীরা স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারেননি, এমনকি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীও যথাযথভাবে পালন করতে পারেননি। বিভিন্ন সময়ে পুলিশ ও ছাত্রলীগের হামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে। ওই সময়ে দেশে গণতন্ত্রের অস্তিত্ব ছিল না।
তিনি বলেন, আজ অনেক মানুষের রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে আমরা আবার স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারছি এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশে বসবাস করতে পারছি। দেশ যতবারই সংকটে কিংবা গণতন্ত্রহীনতায় পড়েছে, ততবারই জিয়া পরিবার এগিয়ে এসে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে।
মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা না দিলে পুরো জাতি বিভ্রান্ত হয়ে পড়ত। তার সেই ঐতিহাসিক আহ্বানে সারা দেশের মানুষ সংগঠিত হয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।
তিনি উল্লেখ করেন, দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রয়োজন দেখা দিলে জিয়াউর রহমানই তা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক সংকটের সময়ও তিনি দেশকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়ে সংকটমুক্ত করেছিলেন।
বিএনপির রাজনীতির ঐতিহ্য তুলে ধরে জাকারিয়া তাহের সুমন বলেন, আমরা এমন একটি রাজনৈতিক দল করি, যা নিয়ে গর্ব করা যায়। বাংলাদেশে খুব কম দলই রয়েছে যাদের নিয়ে গর্ব করা সম্ভব। একমাত্র বিএনপির নেতারাই সবসময় দেশের মানুষ ও জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, পঁচাত্তরের সিপাহি-জনতার বিপ্লব, নব্বইয়ের এরশাদবিরোধী আন্দোলন কিংবা চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান—সবকিছুতেই বিএনপি ও জিয়া পরিবারের অনন্য ভূমিকা রয়েছে।
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আমিরুজ্জামান আমির এবং কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারী আবুসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা।
এ সময় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।



