logo
ভুয়া কাগজে ঋণ

ইউসিবিএলের সাবেক ব্যবস্থাপকসহ ৪ জনের সাজা

ইউসিবিএলের সাবেক ব্যবস্থাপকসহ ৪ জনের সাজা
খুলনা বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালত। ছবি: এশিয়া পোস্ট

ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবিএল) থেকে ঋণ নেওয়া ও অর্থ আত্মসাতের মামলায় ব্যাংকটির সাবেক ব্যবস্থাপকসহ চারজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত চারজনই পলাতক।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) খুলনা বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. আদীব আলী এ রায় দেন। আদালতের উচ্চমান সহকারী ইয়াছিন আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—ইউসিবিএলের খানজাহান আলী রোড শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক গোলাম হোসেন, মেসার্স আলী অ্যান্ড সন্সের মালিক শাহাজাহান আলী চৌধুরী, জামানত প্রদানকারী মঞ্জুরুল আলম ও গোলাম রহমান।

রায়ে গোলাম হোসেনকে দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারায় পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

অন্য তিন আসামিকে দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায় পৃথকভাবে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাদের প্রত্যেককে ১০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আদালত সূত্র জানায়, সাজাগুলো পৃথকভাবে চলবে।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৯ সালে ইউসিবিএলের খানজাহান আলী রোড শাখায় হিসাব খোলেন মেসার্স আলী অ্যান্ড সন্সের মালিক শাহাজাহান আলী চৌধুরী। ২০০১ সালের ৩০ জানুয়ারি ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য তিনি ২৫ লাখ টাকা ঋণের আবেদন করেন। আবেদনটি যাচাই শেষে ঢাকা থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়ে ১০ ফেব্রুয়ারি খুলনা শাখায় ফিরে আসে।

এরপর ১১ মার্চ গোলাম হোসেন শাখা ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব নেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি প্রত্যাখ্যাত ঋণ আবেদনটি পুনরায় ঢাকায় পাঠান এবং প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ছাড়াই ঋণের সুপারিশ করেন। পরে ১০ লাখ টাকা ঋণ মঞ্জুর হয়।

ঋণের জামিনদার হিসেবে মঞ্জুরুল আলম ও গোলাম রহমানের দেওয়া কাগজপত্র পরবর্তী সময়ে ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়।

ঋণের টাকা পরিশোধ না করায় ২০০৩ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি ব্যাংকের নতুন ব্যবস্থাপক মো. ছাদিকুর রহমান জামিনদারদের নোটিশ দেন। তখন ব্যাংকে এসে গোলাম রহমান জানান, ঋণের দলিলপত্র ও জামিননামা ভুয়া। এ সময় সুদসহ ঋণের পাওনা দাঁড়ায় ১৩ লাখ ৭০ হাজার ৫৭৫ টাকা।

এ ঘটনায় ২০০৫ সালের ৩০ জানুয়ারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মো. ছাদিকুর রহমান বাদী হয়ে আদালতে নালিশি দরখাস্ত করেন। পরে আদালতের নির্দেশে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত শুরু করে। দুদকের খুলনা জেলা কার্যালয়ের তৎকালীন সহকারী পরিচালক সেলিনা আক্তার ২০১০ সালের ১০ অক্টোবর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মঙ্গলবার আদালত এ রায় দেন।