মসজিদ-মঠ ও জমিদার বাড়িসহ বরিশালের দৃষ্টিনন্দন ১৫ স্থান

ঈদুল আজহা উপলক্ষে এবার বড় ছুটি পেয়েছেন কর্মজীবীরা। এই সময়টা নদীর পাড়ে কাটাতে পছন্দ করেন অনেকে। কেউ ঘুরে আসতে ঐতিহাসিক জায়গাগুলোতে। দক্ষিণাঞ্চলের প্রাণকেন্দ্র বরিশাল জেলায় রয়েছে অন্তত ১৫টি দর্শনীয় স্থান। এবার ঈদে পরিবারের সঙ্গে জেলার কোথায় ঘুরে আসবেন তার একটি তালিকা থাকল।
নদীর পাড়ে শান্তির খোঁজে
দক্ষিণাঞ্চল মানেই নদ-নদী। এ অঞ্চলের মানুষের বেশির ভাগ বিনোদনকেন্দ্র গড়ে উঠেছে নদীর পাড়ে। ব্যতিক্রম নয় বরিশালও। শহরটির পূর্ব পাশ দিয়ে বয়ে গেছে এক সময়ের প্রমত্ত কীর্তনখোলা। এই নদী কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে ত্রিশ গোডাউন, মুক্তিযোদ্ধা পার্কসহ অন্যান্য স্থাপনা।
চরবাড়িয়া তালতলী গ্রাম
একটি বেড়িবাঁধ পাল্টে দিয়েছে এক সময়ের ভাঙনকবলিত এলাকা বরিশালের চরবাড়িয়া ইউনিয়নের তালতলী গ্রামের চিত্র। একসময় ভাঙনকবলিত থাকলেও বর্তমানে বেড়িবাঁধ ঘিরে স্থানীয়ভাবে নানা উন্নয়ন করায় বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে এলাকাটি। ঘুরতে আসা মানুষ জানিয়েছে, কোলাহলমুক্ত নদীর পাড় হওয়ায় আকৃষ্ট হচ্ছেন তারা।
২০১৯ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১৯১ কোটি টাকা ব্যয়ে বেড়িবাঁধ ও ওয়াকওয়ে নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর পাল্টাতে শুরু করে এ জনপদের দৃশ্য। ২০২৩ সালে কাজ শেষ হলে বেড়িবাঁধকে ঘিরে তৈরি হয় মানুষের আয়ের উৎস। বর্তমানে চরবাড়িয়ার তালতলী এলাকায় ছোট-বড় মিলিয়ে গড়ে উঠেছে প্রায় ৫০টি দোকান ও রেস্তোরাঁ।
ত্রিশ গোডাউন রিভারভিউ পার্ক
নামটাই কেমন যেন এক আজব–ত্রিশ গোডাউন। তবে এই নাম দেওয়ার কারণ হলো খাদ্য বিভাগের ৩০টির বেশি খাদ্যগুদাম গড়ে ওঠে এই এলাকাটিতে। তবে নাম যেনই হোক ৩০ গোডাউনকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে রিভারভিউ পার্ক ও বধ্যভূমি। নগরীর পাশ দিয়ে বয়ে চলা কীর্তনখোলা নদীর ওপর করা হয়েছে শহর রক্ষাবাঁধ। প্রশস্ত বাঁধের ওপর দিয়ে বানানো হয়েছে রাস্তা। নদীর সৌন্দর্য উপযোগ করতে এখানে ছুটে আসেন মানুষ। নদী ভ্রমণের জন্য ট্রলার ও নৌকা থাকার পাশাপাশি আছে খাবারের ব্যবস্থা।
মুক্তিযোদ্ধা পার্ক
বিনামূল্যে ঘোরাফেরার জন্য বরিশালের অন্যতম জনপ্রিয় স্থানে পরিণত হয়েছে বিনোদনকেন্দ্র মুক্তিযোদ্ধা পার্ক। কীর্তনখোলা নদী ঘিরে গড়ে উঠেছে পার্কটি। ঝাউ-কাঠবাদামসহ নানা প্রজাতির দেশি-বিদেশি ফুল ও বনজ গাছে ছায়া সুনিবিড় এই পার্কে এলে নগরের ইটপাথর ও কোলাহল থেকে একটু স্বস্তি মেলে। এ ছাড়া ইঞ্জিনচালিত নৌকায় ভ্রমণ করা যায় নদী।
প্ল্যানেট পার্ক
বরিশালে যতগুলো শিশু বিনোদনকেন্দ্র আছে, তার মধ্যে অন্যতম প্ল্যানেট পার্ক। পার্কটির ভেতরে আছে শিশুদের জন্য আটটি রাইড। রাইডগুলোর মধ্যে আছে প্লেন, ট্রেন, হর্স রাইডার, সুপার চেয়ার, ফ্লাওয়ার কাপ, শান্তা মারিয়া, প্যাডেল বোট ও প্যারাট্রুপার। এ ছাড়া পুরো পার্কের মধ্যে শিশুদের জন্য আছে ঘুরে দেখার মতো নানা স্থান। পার্কটি সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে।
অক্সফোর্ড মিশন
অক্সফোর্ড মিশন চার্চ বরিশাল শহরের বগুড়া রোডে অবস্থিত। প্রাচীণ এ গির্জার নাম ইপিফানি গির্জা হলেও এটি অক্সফোর্ড মিশন নামেই পরিচিত। অক্সফোর্ড মিশন চার্চটি দেখতে একতলা হলেও উচ্চতায় প্রায় পাঁচতলা ভবনের সমান। গ্রিক স্থাপত্য শৈলীর অনুকরণে নির্মিত হয়েছে। ভেতরে সবুজ ঘাসের মাঠ, পুকুর, স্কুল, লাইব্রেরি, হাসপাতাল, ছাত্রছাত্রী হোস্টেল, ফুলের বাগান এবং নানা প্রজাতির ঔষধি গাছ রয়েছে।
সিস্টার এডিথের নকশায় ১৯০৩ সালে গির্জাটির নির্মাণকাজ শুরু হয়ে ফাদার স্ট্রংয়ের নির্দেশনায় ১৯০৭ সালে শেষ হয়। প্রায় ৩৫ একর জমির একাংশে নির্মিত অক্সফোর্ড মিশন চার্চের ভেতরে রয়েছে কাঠ খোদাই করা নকশা এবং মার্বেল পাথরের মেঝে। অক্সফোর্ড মিশন চার্চের রয়েছে সুবিশাল মনোরম প্রার্থণা কক্ষ।
চারপাশের পরিবেশ অনেক শান্ত ও স্নিগ্ধ। রয়েছে সারি সারি পাম্প গাছ। গির্জার পাশে আছে ফাদার হাউস ও মাদার হাউস। অনুমতি নিয়ে সহজেই অক্সফোর্ড মিশন চার্চটি ঘুরে দেখার সুযোগ রয়েছে। সকাল থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এখানে আগত দর্শনার্থীদের জন্য চার্চটি খোলা থাকে।
বেলস পার্ক
ইতিহাস ও ঐতিহ্য মিশে আছে বরিশাল নগরীর বেলস পার্ককে ঘিরে। এই উদ্যানটি যেমন ব্রিটিশ উদ্যোগের স্মারক। তেমনি এর সঙ্গে মিশে আছে জাতীয় জীবনের নানা ঘটনা প্রবাহের ধারাবাহিক অনুষঙ্গ। উদ্যানটি ঘিরে রয়েছে ওয়াকওয়ে। রয়েছে অসংখ্য বাহারি বৃক্ষ। উদ্যানের পাশে বাহারি লেক সৌন্দর্যকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
রাতে সবুজ ঘাসের পরে নান্দনিক আলো উদ্যানের সৌন্দর্যকে শুধু বাড়ায়নি, তাকে অনন্য করে তুলেছে। উদ্যানের মাঝখানে সবুজ ঘাসের গালিচা ছাড়াও চারদিকে রয়েছে ফুলের বাগান ও ছায়াদানকারী বৃক্ষ। রয়েছে বসার বেঞ্চ ও ছাতি।
উদ্যানের পাশে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে নির্মাণ করা হয়েছে গ্রীন সিটি পার্ক; যা উদ্যানকে আরও নান্দনিক করেছে। বর্তমানে এই বৃহৎ উদ্যানের ওয়াকওয়েতে সকাল-সন্ধ্যায় হেঁটে ভ্রমণ করেন কয়েক হাজার মানুষ। সন্ধ্যায় আলোক উদ্ভাসিত এই উদ্যানটি এখন অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র।
লাকুটিয়া জমিদার বাড়ি
বরিশাল শহরতলীর খুব কাছেই রয়েছে প্রায় বছরের পুরাতন লাকুটিয়া জমিদার বাড়ি। এই বাড়ির অবস্থান শহর থেকে আট কিলোমিটার উত্তরে বরিশাল সদর উপজেলার লাকুটিয়া গ্রামে। জমিদার বাড়িটি এক সময় পরিত্যক্ত ভুতুড়ে বাড়ি থাকলেও এখন নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। বাড়িটিকে ঘিরে রয়েছে প্রায় চারশ বছরের পুরোনো ইতিহাস। এখানে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন মঠ, সুবিশাল দিঘি, মাঠ এবং কারুকার্য মণ্ডিত জমিদার বাড়ি।
জমিদার বাড়ির শিলালিপি থেকে জানা গেছে, প্রায় ১৭০০ সালে রুপচন্দ্র রায়ের ছেলে রাজচন্ত্র রায়ের হাত ধরে ইট, পাথর আর সুরকির গাঁথুনিতে নির্মাণ করা হয় লাকুটিয়া জমিদার বাড়িটি। চারশ বছরের পুরাতন এই বাড়িটির দৃষ্টিনন্দন নির্মাণশৈলী ও কারুকার্য ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে। রাজা রাজচন্দ্র রায়ের এ বাড়িটি উনিশ শতকেও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পীঠস্থান হিসেবে ব্যাপক পরিচিত ছিল।
ঐতিহাসিক দুর্গাসাগর দিঘি
১৭৮০ খৃষ্টাব্দে চন্দ্রদ্বীপ পরগনার তৎকালীন রাজা শিবনারায়ণ এলাকাবাসীর পানির সংকট নিরসনে মাধবপাশায় একটি বৃহৎ দীঘি খনন করেন। তার মা দুর্গাদেবীর নামে দীঘিটির নামকরণ করা হয় দুর্গাসাগর। প্রত্নতত্ত্ব সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিবর্তে দুর্গাসাগর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করছে জেলা প্রশাসন। দুর্গাসাগরের তিনদিকে ঘাটলা ও দীঘির ঠিক মাঝখানে ৬০ শতাংশ ভূমির ওপর টিলা।
সাগর দিয়ে এর বিশালত্বকে বোঝানো হয়েছে। এত বড় দীঘি বরিশাল বিভাগে নেই। এটি পর্যটকদের এবং প্রকৃতি প্রেমীদের কাছে একটি সুন্দর স্থান। বিশাল সিমেন্টের প্রশস্ত ঘাটলা। দীঘির মাঝখানে একটি সুন্দর দ্বীপ রয়েছে; যেখানে শীতকালে অতিথি পাখিদের কলকাকলিতে মুখর থাকে। পাখিদের অভয়ারণ্য এই এলাকা।
দীঘির পাড়ে সরু রাস্তা, মাঝে-মধ্যে বসার বেঞ্চ, ঘন সবুজ বিভিন্ন ধরনের গাছ আপনাকে দিবে অনাবিল শান্তি। মৎস্য শিকারিরাও এখানে আসেন বিশাল আকৃতির মাছ ধরার জন্য। বছরের কোনো এক সময় টিকিট কেটে বড়শি দিয়ে মাছ ধরার সুযোগ আছে এখানে।
দৃষ্টিনন্দন গুঠিয়া মসজিদ
সুদৃশ্য ক্যালিওগ্রাফি, বর্ণিল কাচ ও মূল্যবান মার্বেল পাথরের নির্মাণশৈলীর অনন্য ও দৃষ্টিনন্দন বায়তুল আমান জামে মসজিদ। এটি গুঠিয়া মসজিদ নামে বেশি পরিচিত। ২০ গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটি বরিশাল শহর থেকে ২২ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে বানারীপাড়া সড়ক-সংলগ্ন উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়া ইউনিয়নের চাংগুরিয়া গ্রামে অবস্থিত।
মসজিদের ভেতরে একসঙ্গে প্রায় ১৫০০ মানুষ নামাজ আদায় করতে পারেন। বাইরের অংশে আরও পাঁচ হাজার মুসল্লি নামাজ পড়তে পারেন। এ ছাড়া নারীদের নামাজ আদায়ের জন্য আছে আলাদা ব্যবস্থা। প্রতিদিনই শত শত পর্যটকের ভিড়ে মুখর থাকে মসজিদটি।
২০০৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর বরিশাল ২ আসনের সংসদ সদস্য এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু চাংগুরিয়ার নিজবাড়ির সামনে প্রায় ১৪ একর জমির ওপর মসজিদ-ঈদগাহ কমপ্লেক্সের নির্মাণকাজ শুরু করেন। ২০০৬ সালে কমপ্লেক্সের নির্মাণকাজ শেষ হয়।
কসবা মসজিদ
কসবা মসজিদটি গৌরনদী উপজেলাধীন কসবা গ্রামে অবস্থিত। নয়গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটি বাগের হাটের ষাটগম্বুজ মসজিদের অনুরুপ বর্গাকারে নির্মিত। মসজিদের সম্মুখ ভাগ ফুল ও অন্যান্য নকসায় ভরপুর। মসজিদের চার কোণে চারটি গোলাকার টারেক রয়েছে। টারেকগুলো রেখায় আলংকৃত।
মসজিদের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট হলো কার্নিশগুলো বর্গকারে নির্মিত। উত্তর ও দক্ষিণ দিকে একটি খিলানযুক্ত প্রবেশ পথ আছে। পূর্বদিকে মসজিদের ভেতরে প্রবেশের জন্য তিনটি পথ রয়েছে। পশ্চিম দেয়ালে তিনটি মেহরাব আছে। পঞ্চদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় খানজাহান রহঃ এর আমলে নির্মিত।
মাহিলাড়া মঠ
গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া গ্রামে অবস্থিত মাহিলাড়া মঠ। এটির দক্ষিণ পাশে একটি সুবিশাল দীঘি। পূর্বপাশে একটি পুকুর এবং পশ্চিম ও উত্তর পাশে পাকা সড়ক রয়েছে।
স্থানীয়ভাবে এটি সরকারের মঠ নামে পরিচিত হলেও শিখর মন্দির শিল্পের অপূর্ব নিদর্শন। মঠটিতে কোনো খোদিত শিলালিপি পাওয়া যায়নি। তবে সপ্তদশ শতাব্দীতে নবাব আলীবর্দি খানের আমলে সরকার রূপরাম দাশগুপ্ত এ মঠটি নির্মাণ করেছেন বলে প্রত্নতত্ব অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।
সুউচ্চ মঠটি ইতালির লিসা টাওয়ারের সঙ্গে মিল রয়েছে। ভূপৃষ্ঠ থেকে মঠটি প্রায় ২৭ দশমিক ৪০ মিটার উঁচু। অষ্টভুজাকারে নির্মিত এ মঠের নিচের দিকের প্রতিটি ভুজ বা বাহুর দৈর্ঘ্য ১ দশমিক ৯১ মিটার। এ বাহুগুলো ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬ দশমিক ২ মিটার ওপর পর্যন্ত একই দৈঘর্য বিশিষ্ট। এরপর মঠটি ক্রমশ সরু হয়ে ওপরের দিকে উঠে গেছে। সরু অংশটি অসংখ্য ধনুক আকারের কার্ণিসের অলঙ্করণ শোভিত হয়ে শিখরে গিয়ে শেষ হয়েছে।
মঠের অভ্যন্তরে বর্গাকারে নির্মিত একটি ছোট কক্ষ রয়েছে। এ কক্ষটির একমাত্র প্রবেশপথ মঠের পশ্চিম দেয়ালে রয়েছে। সেগমেন্টাল খিলানের এ প্রবেশ পথটির ওপরে অবস্থিত প্যানেলটিতে বেশকিছু জ্যামিতিক অলংকরণ রয়েছে। এরূপ অলংকরণ মঠের অন্যান্য দিকেও দেখা যায়। এ মঠটি বাংলাদেশ সরকারের একটি সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে প্রত্নতত্ব অধিদপ্তরের তত্বাবধানে রয়েছে।
মিয়াবাড়ি মসজিদ
বরিশাল সদরের কড়াপুর ইউনিয়নের রায়পাশা গ্রামের সুপ্রাচীন স্থাপত্যশৈলীর অনিন্দ্য সুন্দর আকর্ষণ মিয়াবাড়ি মসজিদ। এটি ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত বলে মনে করা হয়। বরিশালের হাতেম আলী কলেজের চৌমাথা থেকে মাত্র ৯ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মসজিদটি।
এটি কড়াপুর মিয়াবাড়ি মসজিদটি মুঘল আমলে নির্মিত বাংলাদেশের একটি প্রাচীন মসজিদ। মসজিদটি দ্বিতলবিশিষ্ট। দেখতে অনেক সুন্দর ও কারুকার্যমণ্ডিত।
মসজিদটির নিচে রয়েছে ছয়টি দরজাবিশিষ্ট আবাসন ব্যবস্থা। সেখানে প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসার ছাত্রদের জন্য আবাসন ব্যবস্থা রয়েছে। দোতলাকে কেন্দ্র করেই মূল মসজিদের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেয়েছে। দোতলায় মসজিদজুড়ে চমৎকার নকশার কাজ রয়েছে।
মূল মসজিদের রয়েছে তিনটি দরজা। মসজিদের চারপাশে পিলারের ওপর নির্মিত হয়েছে আটটি বড় মিনার। বড় মিনারগুলোর মাঝে রয়েছে ছোট ছোট ১২টি মিনার। আবার ছোট মিনারগুলোর মাঝে স্থানকে সুন্দর কারুকার্যময় নকশা দিয়ে অলংকৃত করা হয়েছে। মসজিদের মাঝখানে রয়েছে বড় তিনটি গম্বুজ। মধ্যের গম্বুজটি সবচেয়ে বড়। যার ভেতরের অংশেও রয়েছে কারুকার্যময় সুন্দর নকশার সমাহার।
মসজিদটি নির্মাণের ইতিহাস সম্পর্কে জনশ্রুতি রয়েছে, বৃহত্তর বরিশাল অঞ্চলের ব্রিটিশ আমলের সূচনালগ্নে নির্মিত একটি মসজিদ। ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করা হায়াত মাহমুদ এ মসজিদটি নির্মাণ করেন।
আরও যেতে পারেন যেসব জায়গায়
ছুটিতে ঘুরে আসতে পারেন দেশের অন্যতম পর্যটন এলাকা সমুদ্রসৈকত কুয়াকাটা ও ঝালকাঠির ভিমরুলী পেয়ারা বাগান ও ভাসমান পেয়ারা বাজার থেকে। এ ছাড়া বাকেরগঞ্জ এর সতীন্দ্র স্মৃতি গান্ধী আশ্রম, আগৈলঝাড়ার গৈলা মনসা মন্দির, কাশীপুরের চারণ কবি মুকুন্দ দাস কালী মন্দির, জীবনানন্দ দাশ ও ধানসিড়ি নদী, বিএম কলেজ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। এসব এলাকায় ঘুরতে গেলে পেতে পারেন নদী আর প্রকৃতির নিবিড় সান্নিধ্য। পাশাপাশি শহুরে কোলাহল আর ইটপাথরের জীবনের বাইরে এক নির্মল প্রশান্তি।
