logo

স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ডের রায়ে খুশি বাবা, আপিল না করার ঘোষণা

স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ডের রায়ে খুশি বাবা, আপিল না করার ঘোষণা
বাবা জিহাদুল ইসলাম ও মেয়ে স্বপ্না আক্তার। ছবি : এশিয়া পোস্ট কোলাজ

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি স্বপ্না খাতুনের বাবা ও তার পরিবারের সদস্যরা।

সোমবার (৮ জুন) স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা হওয়ার পর এ প্রতিক্রিয়া জানান তারা। নিজের মেয়ের এমন অপরাধে ক্ষুব্ধ বাবা কোনো আপিল করবেন না বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।

আদালতের রায়ের পর নাটোরের সিংড়ায় স্বপ্নার গ্রামের বাড়িতে যান এই প্রতিবেদক। স্বপ্নার বাবা জিহাদুল ইসলাম আবেগাপ্লুত ও ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, ‘আমার এই মেয়ে পরিবারের অমতে সোহেল নামের একটা বখাটের সঙ্গে পালিয়ে গিয়েছিল। এরপরই আমি স্বপ্নাকে ত্যাজ্য করি। যে মেয়ে বাবা-মায়ের কথা মানে না, তার জন্য আমাদের কোনো সুপারিশ নেই। আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে আমরা কোনো আপিলও করব না।’

তিনি আরও বলেন, ‘একটা ফুটফুটে শিশুকে নির্মমভাবে হত্যা করে পুরো একটা পরিবারকে শেষ করে দিয়েছে এই স্বপ্না আর সোহেল। যে অপরাধ স্বপ্না করেছে, আদালত তাকে তার যোগ্য সাজা দিয়েছেন। আদালতের বিচারক একদম সঠিক এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়েছেন। আমরা এই মৃত্যুদণ্ডের রায়ে অত্যন্ত খুশি। এখন আমাদের একটাই দাবি, দ্রুত যেন এই ফাঁসি কার্যকর করা হয়।’

এদিকে স্বপ্নার এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির খবরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তার নিজ এলাকার প্রতিবেশীরাও। এলাকাবাসী ও সিরাজদিখানের বাসিন্দারা জানান, এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে পুরো সমাজের বিবেককে নাড়া দেওয়া হয়েছিল। আদালতের এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তারা অবিলম্বে অপরাধীদের ফাঁসি কার্যকরের দাবি জানান।

এর আগে, রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত শিশু রামিসা হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ (২) ধারায় আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডের পাশাপাশি আসামি সোহেলকে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অপরদিকে আসামি স্বপ্নাকে দণ্ডের পাশাপাশি দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড ভিকটিম রামিসার আইনগত উত্তরাধিকার পাবে। ক্ষতিপূরণ না দিলে আসামিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ভিকটিম মৃত রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।