logo

প্রধানমন্ত্রী আসবেন, তাই বালু দিয়ে ঢাকা হলো ভাগাড়

প্রধানমন্ত্রী আসবেন, তাই বালু দিয়ে ঢাকা হলো ভাগাড়
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ময়লার স্তূপ বালু দিয়ে ঢেকে দেওয়া হচ্ছে। ছবি: এশিয়া পোস্ট

প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ময়লার ভাগাড় বালু দিয়ে ঢেকে দেওয়ার কাজ চলছে। সাভারের আমিনবাজারে কোটি টাকা ব্যয়ে আবর্জনা সরিয়ে ফলের বাগান ও সবুজায়ন গড়ে তোলা হলেও বলিয়ারপুর, পুলিশ টাউন, ফুলবাড়িয়া ও জোরপুল এলাকায় বর্জ্যের সমস্যা রয়ে গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শন সামনে রেখে গত দুদিন ধরে এসব স্থানে বালু ফেলে ময়লা ঢাকার কাজ চলছে। তবে স্থায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নিয়মিত তদারকির ব্যবস্থা না থাকলে এ উদ্যোগ দীর্ঘস্থায়ী হবে না।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বলিয়ারপুর ও জোরপুলসহ কয়েকটি স্থানে ময়লার স্তূপের ওপর বালু ফেলা হচ্ছে। কোথাও শ্রমিকেরা বালু ছড়িয়ে ময়লা ঢাকার কাজ করছেন। স্থানীয়দের দাবি, মহাসড়কের এসব স্থানে দীর্ঘদিন ধরে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে এখন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার তৎপরতা দেখা গেলেও বছরের অন্য সময় পরিস্থিতি প্রায় একই থাকে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, বালু দিয়ে ময়লা ঢেকে রাখলে স্থায়ী সমাধান হবে না। বৃষ্টি হলে বালু সরে গিয়ে আবারও আবর্জনা দৃশ্যমান হবে। পাশাপাশি নিয়মিত বর্জ্য ফেলা বন্ধ করা এবং নজরদারি নিশ্চিত না করলে এসব স্থান আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমিনবাজারের বাগানটা সুন্দর করায় দেখতে ভালো লাগে। কিন্তু একটু সামনে বলিয়ারপুর বা জোরপুল এলাকায় গেলেই তো ময়লার ভাগাড়। পুরো মহাসড়কটা এভাবে পরিষ্কার না রাখলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি তো কমেই না, বরং পরিবেশ নষ্ট হয়।’

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ময়লার ভাগাড়। ছবি : এশিয়া পোস্ট
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ময়লার ভাগাড়। ছবি : এশিয়া পোস্ট

মহাসড়ক ব্যবহারকারী আয়শা সিদ্দিকা বলেন, ‘সরকার বা প্রশাসনের সদিচ্ছা থাকলে তো পুরো রাস্তাই সুন্দর করা সম্ভব। শুধু একটা নির্দিষ্ট জায়গা সাজিয়ে রাখলে তো হবে না, বাকি অংশগুলোও একইভাবে সংস্কার করা দরকার। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে এখন বালু দিয়ে প্রলেপ দিলেও কি সমাধান হবে? সবাই তো আবার আগের মতো ময়লাই ফেলবে।’

চালক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এখানেও যদি আমিনবাজারের মতো নিরাপত্তাকর্মী ও সুন্দর ব্যবস্থা না রাখা হয়, তবে কিছুদিন পর মানুষ আবার আগের মতো রাস্তার ওপরই ময়লা ফেলবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থায়ী নিরাপত্তার ব্যবস্থা না করলে এই সমস্যার সমাধান হবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শনকে সামনে রেখেই ময়লার স্থানগুলোতে বালু ফেলে ঢাকার কাজ চলছে। এভাবে কি আর ময়লার সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়?’

আমিনবাজারে কোটি টাকার প্রকল্প

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজার অংশ থেকে ১০ হাজার টন ময়লা অপসারণ করে সবুজায়ন ও ফলের বাগান গড়ে তোলা হয়েছে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৮৫ টাকা। ২০২৬ সালের ১৫ জুলাই থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পটির কাজ চলে।

প্রায় চার কিলোমিটার এলাকায় বাস্তবায়িত প্রকল্পে ৮ হাজার ৮০০ বর্গমিটার জায়গায় মাটি ও বালু ভরাট, সারফেস ড্রেন নির্মাণ এবং নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরির কাজ করা হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য তিনজন নৈশপ্রহরী ও একজন মালি নিয়োগের পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ ও বায়ুচালিত ব্যবস্থার মাধ্যমে ১২০টি বৈদ্যুতিক বাতি স্থাপন করা হয়েছে।

এ প্রকল্পে নিম, সুপারি, তাল, মাধবীলতা, সিজিয়াম, ঝাউ, রঞ্জন ফুল, মনবিলা ও ল্যান্টানা প্রজাতির মোট ৬ হাজার ১৩৭টি গাছ লাগানো হয়েছে।

স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস প্রশাসনের

মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ময়লার ভাগাড় ও পরিবেশদূষণের অভিযোগের বিষয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আমিনবাজার এলাকায় সৌন্দর্যবর্ধন ও বৃক্ষরোপণের কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। মহাসড়কের যেসব স্থানে ময়লার ভাগাড় রয়েছে, সেগুলোর স্থায়ী সমাধানের পাশাপাশি তাৎক্ষণিকভাবে বালু ফেলে ঢেকে দেওয়ার ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে বলিয়ারপুর, পুলিশ টাউন, ফুলবাড়িয়া ও জোরপুল এলাকার উভয় পাশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।