
৭৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মেহেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের নতুন আটতলা ভবনে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম শুরু হলেও বিভিন্ন তলায় মোবাইল নেটওয়ার্ক নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী, স্বজন ও চিকিৎসকরা।
অভিযোগ রয়েছে, ভবনের ভেতরে অধিকাংশ সময় বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না। এতে জরুরি প্রয়োজনে চিকিৎসক, রোগী ও স্বজনদের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে।
বিশেষ করে সংকটাপন্ন রোগীর ক্ষেত্রে এ সমস্যা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে স্বজনরা চিকিৎসকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও অনেক সময় সফল হচ্ছেন না। আবার ভবনের ভেতরে অবস্থানরত চিকিৎসকদের কাছেও কল পৌঁছাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে রোগীর স্বজনদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ও ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে।
রোগীর স্বজনদের ভাষ্য, নতুন ভবনের বিভিন্ন কক্ষে প্রবেশের পর অনেক সময় কল করা বা রিসিভ করা সম্ভব হয় না। কথা বলার সময়ও সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে বাইরে থাকা স্বজনদের সঙ্গে কথা বলতে অনেককে ভবনের এমন স্থানে যেতে হচ্ছে, যেখানে তুলনামূলকভাবে নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়।
একই সমস্যায় পড়ছেন কর্তব্যরত চিকিৎসকরাও। রোগীর বিষয়ে সহকর্মী, ঊর্ধ্বতন চিকিৎসক, স্বজন কিংবা হাসপাতালের অন্য বিভাগের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগের প্রয়োজন হলেও নেটওয়ার্ক দুর্বল থাকায় তাৎক্ষণিক যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে।
হাসপাতালের নতুন ভবনে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম শুরু হলেও পুরোনো ভবনেও বিভিন্ন কার্যক্রম চলছে। ফলে একই হাসপাতাল চত্বরে একাধিক ভবনে রোগী, স্বজন ও চিকিৎসকদের চলাচল এবং পারস্পরিক যোগাযোগের প্রয়োজন হচ্ছে। এ অবস্থায় নতুন ভবনের ভেতরে নেটওয়ার্ক সংকট থাকায় জরুরি যোগাযোগের সমস্যা আরও প্রকট হচ্ছে।
এদিকে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল হিসেবে নতুন ভবন নির্মিত হলেও চিকিৎসক ও জনবল সংকট এখনও কাটেনি। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১০০ শয্যার কাঠামো অনুযায়ী চিকিৎসকের ৪২টি পদ থাকার বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ২৩ জন। ফলে নতুন ভবন চালুর পর অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়লেও প্রয়োজনীয় জনবল ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ঘাটতি রয়ে গেছে।
হাসপাতালে কর্মরত কয়েকজন চিকিৎসক, নার্স ও ওয়ার্ডবয় নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নতুন ভবনের ভেতরে নেটওয়ার্ক সমস্যার বিষয়টি তারা নিয়মিতই অনুভব করছেন। তবে হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়কের অনুমতি ছাড়া গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার নিষেধাজ্ঞা থাকায় তারা আনুষ্ঠানিকভাবে বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সাজ্জাৎ হোসেনের বক্তব্য জানতে বৃহস্পতিবার ও শনিবার তার কার্যালয়ে গিয়ে কক্ষটি তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। পরে হোয়াটসঅ্যাপে প্রতিবেদনের বিষয়ে প্রশ্ন পাঠানো হয় এবং একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. এস এম জাহিদুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, নতুন ভবনে এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে সেবা কার্যক্রম চালু হয়নি। তবে নিচতলার ইমার্জেন্সি বিভাগে মোবাইল নেটওয়ার্কের বড় ধরনের সমস্যা রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে গণপূর্ত বিভাগকে (পিডব্লিউডি) আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেওয়া হবে।
হাসপাতালের মতো ২৪ ঘণ্টার জরুরি সেবাকেন্দ্রে চিকিৎসক, রোগী ও স্বজনদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ। তাই নতুন ভবনের বিভিন্ন তলায় মোবাইল নেটওয়ার্কের প্রকৃত অবস্থা পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রয়োজনে মোবাইল অপারেটরদের সঙ্গে সমন্বয় করে ইনডোর কভারেজ বাড়ানো, প্রযুক্তিগত সমাধান বা হাসপাতালের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলছেন তারা।
৭৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আটতলা ভবনে আধুনিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে অবকাঠামোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জনবল, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যথায় নতুন ভবনের সুবিধার পাশাপাশি ‘নেটওয়ার্ক সংকট’ রোগী ও চিকিৎসকদের জন্য বাড়তি ভোগান্তির কারণ হয়ে থাকতে পারে।

