নড়াইলে মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যু, পুলিশ হেফাজতে ৩ শিক্ষক

নড়াইল সদর উপজেলার একটি কওমি মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্রাবাসে অসুস্থ হয়ে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। শিক্ষকের পিটুনির কারণে ওই ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে বলে স্বজনদের অভিযোগ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৩ শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নড়াইল সদর হাসপাতাল মর্গে ওই শিক্ষার্থীর লাশের সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়।
মারা যাওয়া সৈয়দা সুলায়মান ইসলাম (১২) সদর উপজেলার আউড়িয়া গ্রামের মারকাযুল কোরআন নড়াইল মাদ্রাসার আবাসিক শিক্ষার্থী এবং রামচন্দ্রপুর গ্রামের সৈয়দ ইকরামুল আলীর ছেলে।
জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক তিন মাদ্রাসা শিক্ষক হলেন- ইউসুফ হায়দার (৩২), হাসিবুর রহমান (২৮) ও ফাহাদ শেখ (২৫)।
নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ভোররাতে আবাসিক ছাত্রাবাসে থাকা অবস্থায় সুলায়মান হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাকে নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে দুপুরে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের বাবা সৈয়দ ইকরামুল আলীর অভিযোগ, মাদ্রাসায় সুলায়মানকে মারধর ও নির্যাতন করা হয়েছিল। সেই নির্যাতনের চোটে অসুস্থ হয়ে তার ছেলের করুণ মৃত্যু হয়েছে।
তবে নির্যাতনের এ দাবি অস্বীকার করে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা নাজমুস সায়াদাৎ আল মামুন জানান, মাদ্রাসায় কোনো প্রকার নির্যাতনের ঘটনা ঘটেনি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে যদি নির্যাতনের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় বা কেউ দোষী সাব্যস্ত হয়, তবে তারা যে কোনো আইনি শাস্তি মেনে নেবেন।
নড়াইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রকিবুল ইসলাম জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মাদ্রাসার তিন শিক্ষককে আটক করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট ও প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।



