logo

চাঁদাবাজির প্রতিবাদে বরিশালের পাইকারি কাঁচাবাজারে কেনাবেচা বন্ধ

চাঁদাবাজির প্রতিবাদে বরিশালের পাইকারি কাঁচাবাজারে কেনাবেচা বন্ধ
বরিশালে চাঁদাবাজদের শাস্তির দাবিতে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মানববন্ধন। ছবি : এশিয়া পোস্ট

চাঁদাবাজি ও হামলার প্রতিবাদে বরিশালের সর্ববৃহৎ পাইকারি কাঁচাবাজারে কেনাবেচা বন্ধ রেখেছেন ব্যবসায়ীরা।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ভোর থেকে বাজারে কোনো ধরনের সবজি কেনাবেচা হয়নি।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তাদের কাছে চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। আর চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালেই হামলার শিকার হতে হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত তারা কেনাবেচা বন্ধ রাখবেন। এ ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে ইতিমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং অন্যদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।

বরিশালের এই পাইকারি কাঁচাবাজারটি পুরো বিভাগের অন্যতম প্রধান সবজি সরবরাহ কেন্দ্র। এখান থেকে প্রতিদিন বরিশাল নগরীসহ বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় সবজি সরবরাহ করা হয়। এ ছাড়া উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকেও প্রতিদিন ট্রাকে করে এই বাজারে সবজি আসে।

সাধারণত প্রতিদিন মধ্যরাত থেকেই বাজারে সবজিবাহী ট্রাক ঢুকতে শুরু করে এবং ভোররাত থেকে জমে ওঠে পাইকারি কেনাবেচা। তবে মঙ্গলবার সকালে বাজারের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। সারি সারি দোকান থাকলেও ছিল অস্বাভাবিক নীরবতা। চাঁদাবাজি ও হামলার প্রতিবাদে ব্যবসায়ীরা দোকান খুললেও কেনাবেচা থেকে বিরত থাকেন।

ব্যবসায়ীরা জানান, দীর্ঘদিন একটি গোষ্ঠী বিভিন্নভাবে তাদের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছে। চাঁদা না দিলে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হামলার ঘটনা ঘটছে। এতে ব্যবসায়িক ক্ষতির পাশাপাশি তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়েছে। তাই অবিলম্বে অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা এবং বাজারে স্থায়ী নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এদিকে খবর পেয়ে সকালে বাজারে এসে ব্যবসায়ীদের খোঁজখবর নেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আল আমিন। তিনি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টিতে দলের ঊর্ধ্বতন নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

মো. আল আমিন বলেন, ব্যবসায়ীরা তাদের ভোগান্তির কথা আমাদের জানিয়েছেন। বিষয়টি দলীয় হাইকমান্ডকে জানানো হবে এবং ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন জানান, ঘটনার পরপরই মামলা নেওয়া হয়েছে এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও জানান, ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তার স্বার্থে বাজার এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বরিশালের এই পাইকারি কাঁচাবাজারে দেড় শতাধিক স্থায়ী দোকান রয়েছে। এর বাইরে প্রতিদিন সড়কের পাশে আরও অন্তত ৫০টি অস্থায়ী দোকান বসে। এখানে বেচাকেনা বন্ধ থাকায় পুরো বরিশাল বিভাগজুড়ে সবজি সরবরাহে তীব্র সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।