সাবেক মন্ত্রী ফরহাদের ভাই মৃদুলের সম্পত্তি ক্রোকে আদালতের নোটিশ

চেক জালিয়াতির মামলায় এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে সাবেক জনপ্রশাসনমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের ভাই ও যুবলীগ নেতা শহীদ সরফরাজ হোসেন মৃদুলের সম্পত্তি নিলামের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আদালতের নির্দেশে জরিমানার টাকা আদায়ে তার সমমূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও নিলামের প্রক্রিয়া শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। নিলামের তালিকায় ৩ দশমিক ৩৬৪৫ একর জমির পাশাপাশি গৃহস্থালি বিভিন্ন মালামাল রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে মেহেরপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষে সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুমাইয়া জাহান ঝুরকার নেতৃত্বে একটি টিম মৃদুলের বাসভবনে গিয়ে এ সংক্রান্ত নোটিশ জারি করে।
নোটিশে বলা হয়, দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮-এর ৭১ ধারা অনুযায়ী দণ্ডিত মৃদুলের ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা আদায়ে তার বিক্রয়যোগ্য সম্পত্তি জব্দ, ক্রোক ও নিলামের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আদালতের নির্দেশের পর শহীদ সরফরাজ হোসেন মৃদুলের মালিকানাধীন স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়। তালিকায় অস্থাবর সম্পত্তি হিসেবে তিনটি সিলিং ফ্যান, একটি ফ্রিজ, দুটি খাট, এক সেট সোফা, দুটি আলমিরা, একটি ড্রেসিং টেবিল ও একটি এসি রয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ধরা হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
অন্যদিকে স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে ঝাউবাড়িয়া মৌজার ৬৬৯২ নম্বর খতিয়ানে ২ দশমিক ৮২৯২ একর, মেহেরপুর মৌজার ১৩৩১৭ নম্বর খতিয়ানে ০ দশমিক ০০৩২ একর, ২৯৬৩/২ নম্বর খতিয়ানের পৃথক দাগে ০ দশমিক ০২৭৫ একর ও ০ দশমিক ০০২৫ একর জমি। এ ছাড়া মেহেরপুর মৌজার ১১৭১৮ নম্বর খতিয়ানে ০ দশমিক ০৪২১ একর এবং হরিরামপুর মৌজার ১৬০১ নম্বর খতিয়ানে ০ দশমিক ৪৬ একর জমিসহ মোট ৩ দশমিক ৩৬৪৫ একর জমি রয়েছে। এর আনুমানিক মূল্য ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৫৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে তালিকাভুক্ত সম্পত্তির মোট আনুমানিক মূল্য ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, সাবেক মন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের ছোট ভাই মৃদুলের সাবেক ব্যবসায়িক অংশীদার দেবাশীষ কুমার বাগচী ২০২৪ সালে তার বিরুদ্ধে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকার চেক ডিজঅনারের অভিযোগে একটি মামলা করেন।
২০২৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি আদালত রায়ে শহীদ সরফরাজ মৃদুলকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং চেকের অঙ্কের দ্বিগুণ অর্থাৎ ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা জরিমানা করেন। তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও তিনি জরিমানার টাকা পরিশোধ করেননি বা উচ্চ আদালতে আপিলও করেননি।
পরবর্তীতে বাদী দেবাশীষ কুমার বাগচী অর্থ আদায়ের জন্য আদালতে আবেদন করলে আদালত আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসনকে। সেই নির্দেশের আলোকেই জেলা প্রশাসন সম্পত্তি জব্দ ও নিলামের এই প্রক্রিয়া শুরু করেছে।



