logo

আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় আশুলিয়ার ঝুট গোডাউনের আগুন নিয়ন্ত্রণে

আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় আশুলিয়ার ঝুট গোডাউনের আগুন নিয়ন্ত্রণে
আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় একটি ঝুট গোডাউনে শুক্রবার রাত পৌনে দশটার দিকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ছবি: এশিয়া পোস্ট

আশুলিয়ায় ঝুট গোডাউনের আগুন আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে এনেছে ফায়ার সার্ভিস। আগুনে ১০ থেকে ১২টি গোডাউন ও অর্ধশতাধিক বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

তবে এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ভুক্তভোগীদের ঘরে থাকা নগদ টাকা ও মূল্যবান মালামাল চুরির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাত ১২টা ২০ মিনিটে দিকে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এর আগে, রাত পৌনে দশটার দিকে এই আগুনের সূত্রপাত হয়।

আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, ঘরের কিছু জিনিসপত্র পুড়ে যাওয়ার পাশাপাশি অক্ষত থাকা অনেক মূল্যবান মালামাল ও নগদ টাকাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। হুড়োহুড়ি ও উদ্ধার তৎপরতার এই সুযোগে দুর্বৃত্তরা জিনিসপত্র চুরি করে নিয়ে গেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা সাথী আক্তার জানান, পেছনের জুটের গুদাম থেকে অত্যন্ত দ্রুত ও তীব্রভাবে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ১৪টি রুমের ওই বাসার সবাই ভয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বের হয়ে যাওয়ায় কোনো জিনিসপত্র বের করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে বড় কিছু জিনিস এক-দুটি বের করা গেলেও ফ্যান ও চুলার মতো ছোটখাটো অনেক জিনিস চুরি হয়ে গেছে।

আরেক ভুক্তভোগী পোশাক শ্রমিক আসমা বেগম জানান, তার ঘরে থাকা সিলিন্ডার, চুলা ও পাতিলে থাকা খাবার ছাড়াও জমানো ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত চুরি হয়ে গেছে। সবাই ঘর থেকে বের হয়ে যাওয়ার সুযোগে ঘরের সবকিছু নিয়ে গেছে। এখন আর কিছু খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

স্থানীয় ব্যবসায়ী রানা জানান, তার বাসায় ব্যবসার কাপড়চোপড়সহ অনেক মালামাল রাখা ছিল। আগুন লাগার পর তাড়াহুড়ো করে বের হওয়ার পর দেখা যায় মানুষ সুযোগ বুঝে অনেক মালামাল নিয়ে চলে গেছে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা জোন-৪ এর উপসহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান জানান, আমরা প্রথমে জিরাবো স্টেশন থেকে রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে ফ্যান্টাসি কিংডমের পেছনের ঝুট গোডাউনে আগুন লাগার সংবাদ পাই। আমাদের মোট ৫টি ইউনিট এখানে কাজ করেছে। এখানে মূল সমস্যা ছিল পানির। আমরা মাত্র একটি সাইড থেকে পানি নিয়ে কাভার করে আগুনটা নির্বাপণের চেষ্টা করেছি। প্রায় আড়াই ঘণ্টা চেষ্টা করে রাত ১২টা ২০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছি। এখনও কিছু জায়গায় ফ্লেম ও ডাম্পিং কাজ চলমান রয়েছে।

ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তিনি বলেন, গোডাউনের যে তথ্য পাওয়া গেছে, তারা বলছে ১০ থেকে ১২টি গোডাউন পুড়েছে। এ ছাড়া শ্রমিক কলোনিতে প্রায় ৫০টির মতো পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুনের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত সাপেক্ষে পরে জানানো হবে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের সংবাদ আমরা পাইনি।

আশুলিয়া জামগড়া ক্যাম্পের ইনচার্জ (এসআই) আবু তালেব জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ শুরু করে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হওয়ায় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস যৌথভাবে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে রাখতে সচেষ্ট ছিল। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।