৭২ ঘণ্টা পরও পশুর হাটের বর্জ্য অপসারণ হয়নি কেরানীগঞ্জে

পবিত্র ঈদুল আজহার ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও ঢাকার কেরানীগঞ্জে অস্থায়ী পশুর হাটগুলোর বর্জ্য এখনও অপসারণ করা হয়নি। ফলে স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী কোরবানির ১২ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণ করার কথা থাকলেও সংশ্লিষ্ট হাট কর্তৃপক্ষ তা বাস্তবায়ন করেনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আগানগর ইউনিয়নের আমবাগিচা ও জিনজিরা এলাকায় স্থাপিত পশুর হাটগুলোর বর্জ্য এখনও রাস্তার ওপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। হাট শেষ হওয়ার পরও রাস্তার ওপর স্থাপিত বাঁশ ও খুঁটি অপসারণ করা হয়নি। এতে একদিকে যেমন জনদুর্ভোগ বাড়ছে, অন্যদিকে মশা-মাছির উপদ্রবও বৃদ্ধি পেয়েছে।
শনিবার (৩০ মে) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, আগানগরের আমবাগিচা মাঠে স্থাপিত বাঁশের খুঁটিগুলো এখনও খুলে নেওয়া হয়নি। বাবুবাজার ব্রিজের নিচেও রাস্তার ওপর বাঁশ পড়ে রয়েছে। হাটের ভেতরে গোবর, কাদা মিশ্রিত খড় ও পশুখাদ্যের উচ্ছিষ্ট ছড়িয়ে আছে। আমবাগিচা এলাকায় রাস্তার ওপর ময়লার স্তূপ দেখা যায়। একই চিত্র দেখা গেছে জিনজিরা হাটেও। জনি টাওয়ারের সামনে সড়কের ওপর জিনজিরা হাটের বর্জ্যের স্তূপ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতি বছর ঈদের পর এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রশাসনের নির্দেশনা থাকলেও তা কার্যকর করা হয় না। ঈদের তিন দিন পরও আগানগর ও জিনজিরা হাট এলাকায় কোরবানির বর্জ্য থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ ও পথচারীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। দ্রুত বর্জ্য অপসারণ ও সড়ক দখলমুক্ত করার দাবি জানান তারা।
রিকশাচালক আবুল হোসেন বলেন, হাট শেষ হলেও কোরবানির বর্জ্য এখনও রাস্তায় পড়ে আছে। দুর্গন্ধের কারণে চলাচল করতে কষ্ট হচ্ছে। অনেক জায়গায় পশুর নাড়িভুঁড়ি, খুর, শিং, চামড়ার অংশ ও রক্তাক্ত বর্জ্য পড়ে রয়েছে।
আকাশ নামে এক পথচারী বলেন, কোরবানির হাটের বর্জ্য পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। রাস্তা দিয়ে হাঁটলে বমি আসে। সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তি নিয়ে চলাচল করছে।
আগানগর এলাকার শিক্ষার্থী সিয়াম বলেন, ঈদের ছুটিতে মাঠে খেলাধুলা করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু ঈদের তিন দিন পরও মাঠ থেকে হাটের বাঁশ-খুঁটি সরানো হয়নি। দ্রুত মাঠ পরিষ্কার করে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানাই।
জিনজিরা হাটের ইজারাদার মোজাদ্দেদ আলী বাবুর সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে আগানগর হাটের ইজারাদার আনোয়ার হোসেন বলেন, আমি শুধু নামে ইজারাদার। এই হাট থেকে দুই টাকাও হাতে ধরি নাই। স্থানীয় নেতারাই হাট পরিচালনা করেছেন।
এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. উমর ফারুক বলেন, কোরবানির বর্জ্য অপসারণে গাফিলতির অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ইজারাদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আফতাব আহমেদকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
