logo

অনলাইনে হুংকার নয়, দেশে এসে বিচারের মুখোমুখি হন: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

অনলাইনে হুংকার নয়, দেশে এসে বিচারের মুখোমুখি হন: তথ্য প্রতিমন্ত্রী
জামালপুর শহরের শফি মিয়ার বাজার মোড়ে জেলা বিএনপি আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। ছবি: এশিয়া পোস্ট

নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, জনগণের পেটে লাথি মেরে, মা-বোনদের বুক খালি করে, রক্তপাত করে আমাদের ভাই-বোনদের হত্যা করেছে, শিশুদের হত্যা করেছে। সেই হত্যার বিচারের আওতায় আসতে, ডিসেম্বর নয়, তাদের এখনই বাংলাদেশে আসতে হবে। বিচারের আওতায় আসতে হবে। অনলাইনে হুংকার দিলে হবে না। বাংলাদেশের মাটিতে এখন আসেন। আপনাদের জন্য ফাঁসির মঞ্চ রেডি আছে। আপনাদের জন্য বিচার রেডি আছে। সাহস থাকলে, বুকের পাটা থাকলে, এখনই আসেন ডিসেম্বর পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করতে চাই না।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জামালপুর শহরের শফি মিয়ার বাজার মোড়ে জেলা বিএনপি আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্তের প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সমাবেশে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, যারা ফ্যাসিবাদ, নৈরাজ্য ও সন্ত্রাসের রাজনীতি করে, বাংলাদেশের মাটিতে তাদের কোনো ঠাঁই নেই। অতীতে তারা যেভাবে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে, এখনও সেই অপচেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ তা প্রতিহত করবে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে যে কোনো নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, তারা যখনই ক্ষমতায় এসেছে, লুটপাট চালিয়েছে। দেশ কিংবা জামালপুর-ময়মনসিংহের কোনো প্রকৃত উন্নয়ন তারা করেনি। ঢাকা শহরের কয়েকটি সেতু ও ওভারপাস বানিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করেছে। এগুলো জনগণের কষ্টার্জিত টাকা। যারা জনগণের সম্পদ লুট করেছে, তাদের একদিন আইনের মুখোমুখি হতেই হবে।

তিনি বলেন, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের রাজপথের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। যত দিন না তারা বিচারের আওতায় আসে এবং আদালতে আত্মসমর্পণ করে, ততদিন পর্যায়ক্রমে এ আন্দোলন চলবে।

সমাবেশে স্থানীয় সংসদ সদস্য ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম, জামালপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ মোহাম্মদ ওয়ারেছ আলী মামুন, বিএনপি নেতা সুলতান মাহমুদ বাবুসহ জেলা বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে তমালতলা মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।