logo
Advertisement

পদ্মার তীরে নৌকাবাইচ দেখতে মানুষের ঢল

পদ্মার তীরে নৌকাবাইচ দেখতে মানুষের ঢল
কালুখালীতে পদ্মা নদীর পাড়ে মানুষের উৎসবমুখর উপস্থিতি। ছবি : এশিয়া পোস্ট

পদ্মার বুকে সারি সারি নৌকা, মাঝিদের ছন্দময় বৈঠার টান আর তীরে দাঁড়িয়ে হাজারো দর্শকের উচ্ছ্বাস—এমন দৃশ্যই দেখা গেছে রাজবাড়ীর কালুখালীর মহেন্দ্রপুরে। তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচকে ঘিরে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পদ্মার তীরে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়।

নৌকাবাইচ দেখতে দুপুরের পর থেকেই মহেন্দ্রপুর খেয়াঘাট-সংলগ্ন এলাকায় জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন বয়সি মানুষ। কেউ এসেছেন পরিবার নিয়ে, কেউবা বন্ধুদের সঙ্গে। নদীর পাড় ছাড়িয়ে আশপাশের সড়ক ও খোলা জায়গাতেও ছিল উপচে পড়া ভিড়।

বাইচের নৌকাগুলো নদীর বুকে ছুটে চলার সময় দর্শকদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ করা যায়। প্রিয় দলের নৌকা এগিয়ে গেলে তীরে থাকা দর্শকরা করতালি ও উল্লাসে উৎসাহ দেন মাঝিদের। বৈঠার ছন্দ আর দর্শকদের করতালি ও স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পদ্মার পাড়।

শুধু নৌকাবাইচই নয়, আয়োজনকে ঘিরে নদীর তীরে বসেছিল গ্রামীণ মেলা। মেলায় বিভিন্ন ধরনের দেশীয় খাবার, খেলনা ও নানাবিধ সামগ্রীর পসরা সাজানো হয়। শিশু-কিশোরদের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অনেকেই মেলা ঘুরে দেখেন।

কালুখালী উপজেলা বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ নৌকাবাইচ সঞ্চালনা করেন মেহেদী হাসান তোতা ও মো. জামাল খান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পাংশা উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ আলী খান, পাংশা পৌর বিএনপির সভাপতি মো. বাহারাম হোসেন সরদার, কালুখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. লুৎফর রহমান খান, রাজবাড়ী জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব তুহিনুর রহমান তুহিন এবং কালুখালী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রকিবুল হাসান রুমা।

এ ছাড়া স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজকরা জানান, নৌকাবাইচ কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়; এটি গ্রামবাংলার দীর্ঘদিনের লোকজ সংস্কৃতি ও মানুষের মিলনমেলার অংশ। আবহমান ঐতিহ্য ধরে রাখার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনের শেষ দিনে পাবনার সৈয়দপুরের ‘নিউ শাপলা’ নৌকা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতার সমাপ্তি ঘটে। তবে নৌকাবাইচ ঘিরে পদ্মার তীরে যে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছিল, তার রেশ থেকে গেছে দর্শনার্থীদের মনে।