logo

লাশ নেয়নি পরিবারের কেউ, দাফন হলো বেওয়ারিশদের কবরস্থানে

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
লাশ নেয়নি পরিবারের কেউ, দাফন হলো বেওয়ারিশদের কবরস্থানে
একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে বেওয়ারিশদের কবরস্থান সম্পন্ন হয়েছে পারভীন আক্তারের দাফন। ছবি: এশিয়া পোস্ট

জীবনের শেষ প্রান্তে মানুষ সাধারণত আপনজনের সান্নিধ্য খোঁজে। মৃত্যুর পরও স্বজনদের কাঁধে চড়ে শেষ যাত্রায় যাওয়ার স্বপ্ন থাকে। কিন্তু পারভীন আক্তারের জীবনের শেষ অধ্যায় ছিল ভিন্ন। মৃত্যুর পর তার গলিত লাশ গ্রহণ করেননি পরিবারের কেউ। শেষ পর্যন্ত একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে বেওয়ারিশদের কবরস্থানে সম্পন্ন হয়েছে তার দাফন।

শনিবার (৩০ মে) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার পূর্ব মেড্ডায় তিতাস নদীসংলগ্ন বেওয়ারিশ লাশের কবরস্থানে দাফন করা হয় ৫৫ বছর বয়সি পারভীন আক্তারকে।

জানা গেছে, পারভীন আক্তারের বাড়ি কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায়। তিনি প্রয়াত রেজ্জাক মিয়ার মেয়ে। প্রায় ৩৫ বছর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা বাচ্চু মিয়ার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। পরে সেই সংসার ভেঙে গেলে আশুগঞ্জ উপজেলার তালশহর এলাকার ইসহাক মৃধাকে বিয়ে করেন। দ্বিতীয় স্বামী কয়েক বছর আগে মারা যান।

গত বৃহস্পতিবার ঈদুল আজহার দিন সন্ধ্যায় সদর উপজেলার নাটাই উত্তর ইউনিয়নের বিরাসার গ্রামের একটি ভাড়া বাসা থেকে পারভীন আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, মৃত্যুর পর দীর্ঘ সময় ঘরের ভেতরে পড়ে থাকায় মরদেহে পচন ধরে যায়। দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে বাড়ির মালিক বিষয়টি টের পেয়ে পুলিশকে খবর দেন।

পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কেউ মরদেহ গ্রহণে আগ্রহ দেখাননি।

এ অবস্থায় এগিয়ে আসে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘বাতিঘর’। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা মো. আজহার উদ্দিন বলেন, পরিবারের সদস্যদের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু অতিরিক্ত পচন, শরীরে পোকা এবং তীব্র দুর্গন্ধের কারণে সাবেক স্বামী, দুই মেয়ে ও স্বজনরা মরদেহ গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই আমরা দাফনের উদ্যোগ নিয়েছি। একজন মানুষ মৃত্যুর পর যেন সম্মানজনকভাবে শেষ বিদায় পান, সেটাই আমাদের উদ্দেশ্য।

সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার পারভীনের সাবেক স্বামী বাচ্চু মিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে মরদেহ দাফনের দায়িত্ব বাতিঘরের কাছে হস্তান্তরের আবেদন করেন। পরদিন স্বেচ্ছাসেবকদের উপস্থিতিতে জানাজা শেষে তার মরদেহ দাফন করা হয়।

অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবাদুর রহমান বলেন, এক সময় যার ছিল সংসার, স্বামী, সন্তান ও আত্মীয়স্বজন, মৃত্যুর পর সেই পারভীন আক্তারের শেষ ঠিকানা হলো বেওয়ারিশ কবরস্থান। তবে শেষ যাত্রায় সম্পূর্ণ একা হয়ে যাননি তিনি, মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী, যারা রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সম্পর্কটিকে বড় করে দেখেছেন।