এমপি আজিজের দলীয় পদ নিয়ে সিদ্ধান্ত দেবে বিএনপির হাইকমান্ড

নাটোর-৪ (বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও নাটোর জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আজিজের দলীয় পদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে দলের হাইকমান্ড। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার নেই বলে জানিয়েছেন জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান আসাদ।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) জেলা বিএনপির জরুরি সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়।
সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আব্দুল আজিজের বিষয়ে দলীয় হাইকমান্ডকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। শিগগিরই লিখিতভাবেও বিষয়টি জানানো হবে বলে জানান আসাদুজ্জামান আসাদ।
জেলা বিএনপির সদস্যসচিব বলেন, গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম হত্যা মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের বড় ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরে তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। রিমান্ড শেষে শুক্রবার তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আরও দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।
এদিকে শাকিলের মৃত্যুর এক দিন পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের কিছু অশ্লীল ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার দাবি সামনে আসে। এ নিয়ে নাটোরের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ভিডিও প্রকাশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ তুলে আব্দুল আজিজের সংসদ সদস্য পদ ও দলীয় পদ থেকে পদত্যাগের দাবি জানান বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
এ পরিস্থিতিতে করণীয় নির্ধারণে শুক্রবার জরুরি সভা ডাকে নাটোর জেলা বিএনপি। সকাল ১০টার দিকে জেলা পরিষদের হলরুমে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির অধিকাংশ সদস্যের উপস্থিতিতে সভা শুরু হয়। সভা চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত।
সভায় জেলা বিএনপির নেতারা সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো নিয়ে আলোচনা করেন। শাকিল ইসলাম হত্যা মামলায় নুরুজ্জামান মিন্টুর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এবং আব্দুল আজিজের ভিডিও নিয়ে দলের সদস্যরা নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।
আসাদুজ্জামান আসাদ জানান, দলের গঠনতন্ত্র পর্যালোচনা করে সভায় সিদ্ধান্ত হয়, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার জেলা আহ্বায়ক কমিটির নেই। এ কারণে আব্দুল আজিজের দলীয় পদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে দলের হাইকমান্ডকে অবহিত করা হয়েছে।
এদিকে ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলাম হত্যা মামলায় তিন দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এমপিপুত্র ও উপজেলা যুবদলের বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুজ্জামান মিন্টুকে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মিন্টুকে নাটোরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপপরিদর্শক শফিকুল ইসলাম। পরে আদালতের বিচারক সাদ্দাম হোসেন তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবারিষা গ্রাম থেকে এ মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে আরও দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে ডিবি পুলিশ। তারা হলেন ওই গ্রামের আল আমিন ও আনিছুর রহমান।
গত ১৪ অক্টোবর রাতে বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত হন গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম। হামলাকারীরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। প্রথমে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

