নারায়ণগঞ্জের লোকালয়ে দেখা মিলল কুমির, উদ্ধারে অভিযান

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার তিনগাঁও এলাকায় লোকালয়ে কুমিরের দেখা মিলেছে। গত শনিবার রাতে স্থানীয়রা প্রথম কুমিরটি দেখতে পান। পরবর্তীতে কুমিরটির ঘোরাঘুরির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। খবর পেয়ে বন বিভাগ, প্রাণিসম্পদ বিভাগ ও বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী দল কুমিরটি উদ্ধারে চেষ্টা চালালেও এখন পর্যন্ত তা ধরা সম্ভব হয়নি।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বন বিভাগ ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কুমিরটির উপস্থিতি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে রোববারও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এলাকাটি পরিদর্শন করেন।
স্থানীয়রা জানান, প্রথমে একটি পুকুরে কুমিরটিকে দেখা যায়। পরে সেটি পাশের আরেকটি পুকুরে চলে যায়। বর্তমানে কচুরিপানায় পরিপূর্ণ ওই পুকুরটিতেই কুমিরটি অবস্থান করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঘন কচুরিপানার কারণে সেটির সঠিক অবস্থান শনাক্ত করতে বেগ পেতে হচ্ছে।
বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিবানী সরকার জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়েই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। কুমিরের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি এটি উদ্ধারে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে নিরাপত্তার স্বার্থে স্থানীয়দের সতর্ক করতে এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে।
বন্দর উপজেলা বন কর্মকর্তা কামরুল আবেদীন বলেন, বন বিভাগ ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মীরা প্রথমে কুমিরটি ধরার চেষ্টা চালান। পরে ঢাকা থেকে আসা বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী দল পুকুরে জাল ফেলে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। তবে এখনও কুমিরটি আটক করা সম্ভব হয়নি। আজও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বন্দর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আল মাহমুদ হাসান জানান, প্রাথমিক দর্শনে এটিকে মিঠাপানির কুমির বলে মনে হচ্ছে। এ ধরনের কুমির সাধারণত শান্ত প্রকৃতির হলেও বন্যপ্রাণী যেকোনো সময় হিংস্র হয়ে উঠতে পারে। তাই স্থানীয়দের আপাতত জলাশয়ের কাছাকাছি না যাওয়াই নিরাপদ। পুকুরটি কচুরিপানায় ভরা থাকায় অবস্থান শনাক্তে কিছুটা জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, তিনগাঁও এলাকার আশপাশে কোনো নদী নেই। কাছের নদীটিও বেশ দূরে অবস্থিত। ফলে লোকালয়ের পুকুরে কুমিরটি কীভাবে এলো, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
