Advertisement

পাশাপাশি খোঁড়া হলো ৪ ভাইয়ের কবর, গ্রামজুড়ে শেষ বিদায়ের মহাকর্মযজ্ঞ

এশিয়া পোস্ট নিউজ, চট্টগ্রাম
পাশাপাশি খোঁড়া হলো ৪ ভাইয়ের কবর, গ্রামজুড়ে শেষ বিদায়ের মহাকর্মযজ্ঞ
পাশাপাশি খোঁড়া কবর। ছবি : এশিয়া পোস্ট

পাশাপাশি খোঁড়া হচ্ছে চারটি কবর। ২০-২৫ জন মানুষ মিলে কবর খুঁড়ছেন। মসজিদ প্রাঙ্গণের কিছুটা দূরে ১০ জন ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বাঁশ কাটছেন, বানাচ্ছেন বেড়া। আরও কিছু দূরে ১০-১৫ জন মিলে বানাচ্ছেন কাঠের বাক্স। যেন পুরো গ্রামবাসী দল বেঁধে শেষ বিদায়ের এক মহাকর্মযজ্ঞে নেমেছেন।

Advertisement

মঙ্গলবার (১৯ মে) দিনভর রাঙ্গুনিয়া উপজেলা লালানগর ইউনিয়ন বন্দারাজ পাড়া জামে মসজিদসংলগ্ন গোরস্তান ও আশপাশের চিত্র ছিল এমনই।

সম্প্রতি ওমানে গ্যাস বিস্ফোরণে মর্মান্তিক মৃত্যু হওয়া এই গ্রামের ৪ সহোদর ভাইয়ের দাফনকে কেন্দ্র করে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ। ওমানে গাড়ির এসির বিষাক্ত গ্যাসে প্রাণ হারানো চার ভাই-রাশেদুল, সাহেদুল, সিরাজুল ও শহিদুলের মরদেহ বিশেষ ফ্লাইটে দেশে ফিরছে। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে বুধবার ভোরেই লাশ পৌঁছাবে তাদের নিজ গ্রামে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাদের আরেক ভাই এনামুল হক এনাম।

তিনি জানান, মঙ্গলবার (১৯ মে) রাত ৯টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে তার ৪ ভাইয়ের মরদেহ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বিমানবন্দরে সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে ১০টার দিকে বিশেষ ফ্রিজার অ্যাম্বুলেন্সে তাদের মরদেহ রাঙ্গুনিয়ার গ্রামে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে বুধবার (২০ মে) সকাল ৭-৮টার মধ্যে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

এনাম আরও জানান, এখনও জানাজার সময় নির্ধারণ করা হয়নি। আপাতত পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি চারটি কবর খোঁড়ে প্রস্তুত করা হয়েছে। লাশ বাড়িতে পৌঁছানোর পরই জানাজার সময় নির্ধারণ করা হবে। তবে আগামীকাল বুধবারই হোসনাবাদ লালানগর উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ৪ ভাইয়ের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে এবং জানাজা শেষে বন্দেরাজ পাড়া জামে মসজিদসংলগ্ন পারিবারিক গোরস্তানে তাদের দাফন করা হবে।

এদিকে বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিজি-৭২২ মঙ্গলবার ওমানের স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ১০ মিনিটে মাস্কেট থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবে। একই ফ্লাইটে দেশে ফিরবেন নিহতদের স্বজন মো. ফজলুল হক।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম সমিতি ওমানের সভাপতি মো. ইয়াসিন চৌধুরী বলেন, মরদেহ দেশে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় সব আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। ওমান সরকার ও বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় দ্রুততার সঙ্গে এসব কার্যক্রম শেষ করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সরকারের ব্যবস্থাপনায় নিহত ৪ ভাইয়ের মরদেহ পরিবহনের সম্পূর্ণ কার্গো খরচ বহন করা হচ্ছে। পাশাপাশি ওমান চট্টগ্রাম সমিতির পক্ষ থেকে হাসপাতালের হিমঘর বিল,কাফনের কাপড়,গোসল ও দাফনের প্রস্তুতিসহ প্রয়োজনীয় সব খরচ বহন করেছে। নিহতদের পরিবারের কাছ থেকে কোনো অর্থ নেওয়া হয়নি।

গত ১৩ মে রাতে ওমানের আল মুলাদ্দাহ আল মোছানা স্টেট অব আল বাতিনাহ এলাকায় গাড়ির এসির বিষাক্ত গ্যাসে রাশেদুল ইসলাম, সাহেদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম নামে একই পরিবারের চার প্রবাসী ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। তারা উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বন্দারাজার পাড়া গ্রামের মৃত জামাল উদ্দিনের ছেলে। তবে ৪ ছেলের মৃত্যুর খবর এখনও পুরোপুরি জানানো হয়নি তাদের অসুস্থ বৃদ্ধা মাকে। মা সন্তানের মৃত্যুর খবর পুরোপুরি না জানলেও মৃত ২ জনের স্ত্রী, ছেলেমেয়ে ও পরিবারের সদস্যরাসহ স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।