logo
Advertisement

নতুন দুই মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক চিফ হুইপ ফিরোজ

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ
পটুয়াখালী সদর, পটুয়াখালী
নতুন দুই মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক চিফ হুইপ ফিরোজ
আ স ম ফিরোজকে আদালতে তোলা হয়। ছবি: এশিয়া পোস্ট

দশম জাতীয় সংসদের সাবেক চিফ হুইপ ও পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আ স ম ফিরোজকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা আরও দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পৃথক দুটি আবেদনের শুনানি শেষে ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক তাকে সংশ্লিষ্ট মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর অনুমতি দেন।

এদিন কারাগার থেকে আ স ম ফিরোজকে আদালতে হাজির করা হয়। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ী এলাকায় শিশু নাঈম হাওলাদার নিহতের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলা এবং আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ দুই যুবককে ঘিরে করা হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা। শুনানি শেষে আদালত আবেদন দুটি মঞ্জুর করেন। পরে আ স ম ফিরোজকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে গুলিবিদ্ধ হয় শিশু নাঈম হাওলাদার। বেলা আড়াইটার দিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন বিকেলে তার মৃত্যু হয়।

নাঈমের মৃত্যুর ঘটনায় করা হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার এসআই নাজিম উদ্দিন ফকির আ স ম ফিরোজকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, নাঈম নিহতের ঘটনায় সাবেক এই চিফ হুইপের সম্পৃক্ততার বিষয়ে সাক্ষ্য ও তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।

অন্যদিকে, একই দিন কুতুবখালী এলাকার সুবর্ণ পান্না ম্যানসনের ছাদে অবস্থান করছিলেন তারেক ও শিহাব নামে দুই যুবক। আন্দোলন ঘিরে সংঘর্ষের সময় তারা গুলিবিদ্ধ হন। পরে চিকিৎসা নেওয়ার পর তারেক যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া আ স ম ফিরোজকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। তার দাবি, ওই ঘটনায়ও ফিরোজের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এদিকে শুনানির সময় আদালতের অনুমতি নিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন আ স ম ফিরোজ। তিনি আদালতকে বলেন, তার বয়স ৭৮ বছর। তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং আটবারের সংসদ সদস্য। দেশের জন্য মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, ক্ষমতায় থাকাকালে কোনো অন্যায়-অবিচার করেননি। জীবনে কোনো অপরাধও করেননি বলে আদালতকে জানান তিনি।

আ স ম ফিরোজ আরও বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে রয়েছেন এবং বর্তমানে শারীরিকভাবে অসুস্থ। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তার চিকিৎসা প্রয়োজন হলেও কারাগারে থাকায় তা নিতে পারছেন না। জামিন পাওয়ার পর নতুন নতুন মামলায় তাকে আবার গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে বলেও আদালতের কাছে অভিযোগ করেন তিনি।

চিকিৎসার সুযোগ পাওয়ার জন্য আদালতের কাছে জামিনের আবেদন করেন সাবেক এই চিফ হুইপ। তবে তার বক্তব্যের বিষয়ে আদালত কোনো মন্তব্য করেননি বলে জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা।

এর আগে ২০২৪ সালের ২৩ আগস্ট রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে ভাটারা থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় আ স ম ফিরোজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ওই মামলায় তিনি জামিন পেলেও পরবর্তী সময়ে অন্যান্য মামলায় গ্রেপ্তার থাকায় কারাগারেই রয়েছেন।