গাইবান্ধায় হত্যা মামলায় ৩ ভাইয়ের যাবজ্জীবন

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংঘটিত হত্যা মামলায় তিন ভাইকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মিজান। এর আগে বুধবার বিকেলে গাইবান্ধার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক মোল্ল্যা সাইফুল আলম এ রায় দেন।
সাজাপ্রাপ্তরা হলেন—গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের বাড়াইকান্দি গ্রামের মৃত ইব্রাহীম ব্যাপারীর তিন ছেলে আবদুল হালিম (৩৯), আবদুল হামিদ (৩৭) ও মাহাবুর রহমান (৩৫)। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
আদালত ও মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালের ৪ জানুয়ারি সকালে সুন্দরগঞ্জের শ্রীপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ শ্রীপুর (বাড়াইকান্দি) গ্রামে আসামিরা বিবাদমান একটি জমির আইল কাটতে/উত্তোলন করতে গেলে তাদের ওয়ারিশ শাহাদাৎ হোসেন ও স্বজনরা এতে বাধা দেন। এ সময় আসামিদের কোদাল ও লাঠির আঘাতে প্রতিপক্ষের শাহাদাৎ হোসেন, সাজেদা বেগম, সামছুল হক ও আবেদা বেগম গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে শাহাদাৎ হোসেনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সেদিনই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর (রেফার্ড) করা হয়। পরদিন ৫ জানুয়ারি সকাল ৯টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাহাদাৎ হোসেন মারা যান।
এ ঘটনায় ওই দিনই সুন্দরগঞ্জ থানায় ১৭ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের স্বজন আতাউর রহমান। পরে তদন্ত শেষে ১৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেয় পুলিশ। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বুধবার বিকেলে এ রায় দেন আদালত। রায়ে ১৩ আসামির মধ্যে তিনজনকে যাবজ্জীবন এবং অপর ১০ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।
আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মিজান বলেন, দীর্ঘ ১৪ বছর সাক্ষ্য-প্রমাণ ও শুনানি শেষে এই হত্যা মামলায় তিন সহোদরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছেন আদালত। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। তবে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর ১০ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।



