রাজশাহীতে ২৪ ঘণ্টায় ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টি, বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা

টানা বর্ষণে তীব্র জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে রাজশাহী মহানগরী। গত ২৪ ঘণ্টায় নগরীতে ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ভারী বৃষ্টিতে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক, অলিগলি ও নিচু এলাকাগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। কোথাও হাঁটুপানি, আবার কোথাও সড়ক ডুবে থাকায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই জলাবদ্ধতার কারণে পথচারী, শিক্ষার্থী, কর্মজীবী ও ব্যবসায়ীরা ভোগান্তিতে পড়েন। অনেককেই জমে থাকা ময়লা পানির মধ্য দিয়েই যাতায়াত করতে দেখা গেছে। নগরীর বিভিন্ন নিচু এলাকার বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও পানি ঢুকে পড়েছে।
জলাবদ্ধতার কারণে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসা রোগী ও তাদের স্বজনেরা। মঙ্গলবার রাত থেকে টানা বৃষ্টিতে হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে পানি জমে যায়। ফলে জরুরি রোগী ও স্বজনদের হাঁটু সমান পানি মাড়িয়েই হাসপাতালে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
হাসপাতাল এলাকা ছাড়াও নগরীর কোর্ট চত্বর, সিঅ্যান্ডবি মোড়, বারো রাস্তা, তেরোখাদিয়া, কলাবাগান ও চকপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। কোথাও সড়কের একাংশ, আবার কোথাও পুরো সড়কই পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
নগরবাসীর অভিযোগ, অল্প সময়ের বৃষ্টিতেই রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকা তলিয়ে যায়। এবার টানা ভারী বৃষ্টিতে সেই পানি দ্রুত নিষ্কাশিত না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ড্রেনগুলো ময়লা-আবর্জনা ও পলিতে ভরাট হয়ে থাকায় স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে বলেও তারা জানান।
পথচারী শামিউল আলম বলেন, সকালে কাজে বের হয়ে দেখি রাস্তায় পানি জমে আছে। কোথা দিয়ে হাঁটব, বুঝতে পারছি না। সামান্য বৃষ্টিতেই যদি এভাবে পানি জমে, তবে নগরবাসীর দুর্ভোগের শেষ কোথায়?
রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থী অনামিকা তাজরিনা বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে স্কুল-কলেজে যাতায়াত করতে খুব সমস্যা হচ্ছে। নোংরা পানি পার হয়ে যেতে হচ্ছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা দরকার।
সাহেববাজারের ব্যবসায়ী মুন্না ইসলাম বলেন, দোকানের সামনে পানি জমে থাকায় ক্রেতারা আসতে পারছেন না। অনেক সময় পানি দোকানের ভেতরেও ঢুকে যায়। প্রতিবছর একই সমস্যা হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের রিকশাচালক আব্দুল হান্নান বলেন, রাস্তায় পানি জমে থাকায় রিকশা চালাতে খুব ভয় লাগে। পানির নিচে কোথায় গর্ত আছে বা কোথায় রাস্তা নিচু—বোঝা যায় না।
হাসপাতালে আসা এক রোগীর স্বজন মরিয়ম আক্তার বলেন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গেটের সামনেও পানি জমেছে। জরুরি রোগী নিয়ে আসা-যাওয়ার সময় এই দুর্ভোগ সত্যিই কষ্টকর।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়া পর্যবেক্ষক লতিফা হেলেন জানান, রাজশাহীসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে নিম্নচাপের প্রভাব রয়েছে। এই পরিস্থিতি আগামী এক থেকে দুই দিন স্থায়ী হতে পারে। এ সময় অতি ভারী বৃষ্টিসহ বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।



