বগুড়ায় যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ, ৭ দিনেও মামলা নেয়নি পুলিশ

বগুড়ার শেরপুরে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্বামীসহ সাতজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ। তবে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার সাত দিন পার হলেও মামলা রুজু হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
এদিকে অভিযুক্তদের সঙ্গে দেনদরবার করে তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) শাহাদত আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন ওই গৃহবধূ। তবে পুলিশ কর্মকর্তা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
গত ২৩ অক্টোবর শেরপুর উপজেলার গারিদহ ইউনিয়নের হাপুনিয়া কলোনি মধ্যপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নির্যাতনের শিকার গৃহবধূর নাম মর্জিনা খাতুন (৩২)। তিনি ২৫ অক্টোবর স্বামী রেজাউল করিমকে প্রধান আসামি করে সাতজনের বিরুদ্ধে শেরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালে হাপুনিয়া গ্রামের রেজাউল করিমের সঙ্গে মর্জিনার বিয়ে হয়। তাদের দুটি সন্তান রয়েছে। রেজাউল ভাড়ায় মাইক্রোবাস চালান। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি মাদকাসক্ত এবং বিভিন্ন সময়ে স্ত্রীর কাছে যৌতুকের টাকা দাবি করতেন। সম্প্রতি একটি মাইক্রোবাস কেনার জন্য স্ত্রীর কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন তিনি। ওই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মর্জিনাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার দিন সকালে রেজাউলসহ অভিযুক্ত ব্যক্তিরা মর্জিনার বাড়িতে গিয়ে আবারও পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় রেজাউল লোহার রড দিয়ে তাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে হত্যার উদ্দেশ্যে তার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করা হয়। এসময় অন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিরাও তাকে কিল-ঘুসি, লাথি ও লাঠি দিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মারধরের শিকার হয়ে মর্জিনা তার ভাই রানা বাবুকে মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে তার ভাই ও মা ঘটনাস্থলে যান। পরে পুলিশের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে কিছুটা সুস্থ হয়ে পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি থানায় এজাহার দেন।
মর্জিনার অভিযোগ, এজাহার দেওয়ার সাত দিন পার হলেও পুলিশ মামলা নেয়নি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শাহাদত অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে দেনদরবার করছেন। তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের আর্থিক সুবিধা নিয়ে মামলা গ্রহণে গড়িমসি করছেন বলেও অভিযোগ তার।
মর্জিনা বলেন, যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় স্বামী ও তার স্বজনদের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। এরপর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েও যদি আইনের আশ্রয় না পাই, তাহলে কোথায় গিয়ে বিচার চাইব।
তবে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এসআই শাহাদত। তিনি এশিয়া পোস্টকে জানান, অভিযোগটি তদন্ত করতে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছেন। মামলা নেওয়া হবে। তবে ঢাকায় কাজ থাকায় কয়েকদিন ধরে তিনি বাইরে রয়েছেন।
শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরাম হোসাইন এশিয়া পোস্টকে জানান, নির্যাতনের ঘটনায় অবশ্যই মামলা হবে। ঘটনাটি তদন্তের জন্য একজন এসআইকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে অন্য কোনো বিষয় তার জানা নেই।
