চাহিদার বিপরীতে বিশাল ঘাটতি, টাঙ্গাইলে ভয়াবহ লোডশেডিং

টাঙ্গাইলে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৩৭০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ মিলছে মাত্র ২২৩ মেগাওয়াট। এই বিপুল ঘাটতির কারণে দফায় দফায় লোডশেডিং হচ্ছে, ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সংকটে গুরুতরভাবে ব্যাহত হচ্ছে মিল-ইন্ডাস্ট্রি, কলকারখানা, তাঁতশিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্য।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জেলা পর্যায়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৭০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১১০ মেগাওয়াট। অপরদিকে পল্লী বিদ্যুতের ২০০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ মিলছে ১১৩ মেগাওয়াট। ফলে বিপুল চাহিদা ঘাটতির কারণে শহর ও গ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ঘন ঘন লোডশেডিং দিতে বাধ্য হচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
টাঙ্গাইল পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু বকর সিদ্দিক জানান, টাঙ্গাইল সদরে পিডিবির বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ২৪ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ মিলছে প্রায় ১৭ মেগাওয়াট। ফলে বাধ্য হয়েই ঘন ঘন লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।
একই সুর টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুতের জেনারেল ম্যানেজার মো. ছানোয়ার হোসেনের কণ্ঠেও। তিনি জানান, পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম পাওয়ায় লোডশেডিং হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে তীব্র গরমের মধ্যে দিন-রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু ও বয়স্করা। গৃহিণী লাকী আক্তার বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, শিশুদের পড়াশোনা ও দৈনন্দিন কাজকর্ম মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। সরকারের দ্রুত লোডশেডিং নিরসনে নজর দেওয়া উচিত।
বিদ্যুৎ সংকটে বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছে মিল-ইন্ডাস্ট্রি ও শিল্পকারখানাগুলো। নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন চালু রাখতে অনেকে ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহার করছেন, এতে উৎপাদন খরচ লাফিয়ে বাড়ছে। ছোট ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো এই বাড়তি ব্যয় বহন করতে না পেরে লোকসানে পড়ছে।
এটিএম লুঙ্গি ফেব্রিক্স ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিলীপ কুমার বলেন, বিদ্যুৎ না থাকলে উৎপাদন বন্ধ, আর উৎপাদন বন্ধ মানেই লোকসান। দিনে ৪-৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতে সরকারের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
একইভাবে টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পেও চরম ধস নেমেছে। তাঁতশ্রমিক দয়াল জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় তাঁত বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এতে সময়মতো অর্ডার অনুযায়ী কাপড় সরবরাহ করতে না পেরে চরম ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা।
ক্ষতির মুখে পড়েছেন পোলট্রি খামারি ও দোকান ব্যবসায়ীরাও। পোলট্রি খামারি উজ্জ্বল জানান, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় গরমের মধ্যে মুরগি মারা যাচ্ছে এবং বাধ্য হয়ে জেনারেটর চালাতে গিয়ে জ্বালানি খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে। মার্কেট ব্যবসায়ী লিখন বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে দোকানে ক্রেতার উপস্থিতি কমে গেছে, ফলে বেচাকেনা মন্দা থাকায় তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।



