Advertisement

অভিযানের সময় ছাত্রদল নেতার মৃত্যু, চার পুলিশ প্রত্যাহার

এশিয়া পোস্ট নিউজ, রংপুর
অভিযানের সময় ছাত্রদল নেতার মৃত্যু, চার পুলিশ প্রত্যাহার
নিহত ছাত্রদল নেতা মনোয়ারুল বকশী। ছবি: সংগৃহীত

নিখোঁজ হওয়া এক কিশোরীকে উদ্ধারে ঢাকার সাভারে পরিচালিত অভিযানের সময় মনোয়ারুল বকশী (৩০) নামে এক ছাত্রদল নেতার মৃত্যুর ঘটনায় চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। নিহত মনোয়ারুল সাভার থানা ছাত্রদলের সহসভাপতি ছিলেন।

Advertisement

প্রত্যাহার হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন— পীরগাছা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কনক রঞ্জন বর্মন, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ওসমান আলী, কনস্টেবল প্রশান্ত কুমার এবং কনস্টেবল সুমী আক্তার। প্রশাসনিক দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে রংপুর পুলিশ লাইনে তাদের সংযুক্ত করা হয়।

পুলিশ ও ঘটনার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত ২৩ জুলাই রংপুরের পীরগাছার কৈকুড়ি ইউনিয়নের মোংলাকুটি গ্রামের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম মিন্টু তার ১৫ বছর বয়সী মেয়ে মিমি আক্তার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে পীরগাছা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ওই জিডির সূত্র ধরে পীরগাছা থানার এসআই কনক রঞ্জন বর্মনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মিমির অবস্থান শনাক্ত করে। এরপর তাকে উদ্ধারের উদ্দেশ্যে গত ৭ আগস্ট রাতে সাভারের বিপিএটিসি (বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র) স্টাফ কোয়ার্টারে অভিযান চালায় পুলিশ।

পুলিশের দাবি, তল্লাশি চালানোর সময় পুলিশ সদস্যরা ভবনের নিচতলায় অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ উপর থেকে বিকট শব্দে ভারী কিছু নিচে পড়ার আওয়াজ পেয়ে পুলিশ গিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় মনোয়ারুল ইসলাম বকশীকে দেখতে পায়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

তবে নিহতের স্বজনদের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাদের দাবি, মনোয়ারুলের ভাগিনা শাহরিয়ার কবির সৌমিকের সাথে মিমির প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের সূত্রে তারা পরিবারকে না জানিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে সাভারে সৌমিকের নানার বাড়িতে আশ্রয় নেয় (যে বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ)। স্বজনদের অভিযোগ, অভিযানের একপর্যায়ে পুলিশ ও তাদের সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবে মনোয়ারুল বকশীকে ছাদ থেকে নিচে ফেলে হত্যা করেছে। অভিযানের সময় জিডির বাদী শফিকুল ইসলাম মিন্টু ও তার শ্যালক পুলিশের পোশাক পরিধান করে টিমের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বলেও তাদের দাবি।

এ ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে নিহতের স্বজন, এলাকাবাসী ও রাজনৈতিক সহকর্মীরা পীরগাছা থানা ঘেরাও করে তীব্র বিক্ষোভ শুরু করেন। পরবর্তীতে পীরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙ্গার উপস্থিতিতে পরিস্থিতি শান্ত ও নিয়ন্ত্রণে আসে।

নিহত মনোয়ারুল বকশী গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ হাতিবান্ধা গ্রামের জাফর বকশীর ছেলে। বাবার চাকরির সুবাদে তিনি সাভারের বিপিএটিসি কোয়ার্টারে পরিবারের সাথে বসবাস করতেন।

পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক জানান, ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তে ঢাকা ও রংপুরে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে অভিযানে থাকা পীরগাছা থানার চার পুলিশ সদস্যকে রংপুর পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, পীরগাছা থানার রিকুইজিশনে সহযোগিতা করতে তাদের এসআই আব্দুল হাইসহ দুজন কনস্টেবল সেখানে পাঠানো হয়েছিল। পুরো বিষয়টি বর্তমানে গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে।

বিষয় :