এক স্কুলের ৩৮২ পরীক্ষার্থীর সবাই জিপিএ-৫

এসএসসির ফলাফলে টানা সাফল্যের ধারা বজায় রেখে আবারও দেশসেরা সাফল্য অর্জন করেছে নরসিংদীর নাছিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুল অ্যান্ড হোমস। চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি থেকে অংশগ্রহণকারী ৩৮২ জন শিক্ষার্থীর সবাই পাস করার পাশাপাশি শতভাগ জিপিএ-৫ পাওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. ইমন হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে ২০২২, ২০১৭, ২০১৫ ও ২০২৫ সালেও শতভাগ পাসসহ শতভাগ জিপিএ-৫ পেয়ে জাতীয় পর্যায়ে সেরা হয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি।
বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক শাখা সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে পিইসি, জেএসসি ও এসএসসিতে টানা শতভাগ পাসসহ ফলাফলের ভিত্তিতে প্রায় প্রতি বছরই শিক্ষাবোর্ডে শীর্ষস্থান দখল করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। এরই ধারাবাহিকতায় এবার এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৩৭৬ জন ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখা থেকে ৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৩৮২ জনের সবাই জিপিএ-৫ অর্জন করে।
গত বছরগুলোতেও শতভাগ সাফল্যের রেকর্ড ধরে রেখেছিল বিদ্যালয়টি। ২০২৫ সালে ৩২০ জন অংশ নিয়ে সবাই জিপিএ-৫ পায়। এছাড়া ২০২৪ সালে ২৯৪ জনের মধ্যে ২৯৩ জন, ২০২৩ সালে ২৭৮ জনের মধ্যে ২৭০ জন, ২০২২ সালে ২৬৬ জনের সবাই, ২০২১ সালে ২৪৭ জনের মধ্যে ২৩৭ জন, ২০২০ সালে ২১৪ জনের মধ্যে ২০০ জন, ২০১৯ সালে ১৭১ জনের মধ্যে ১৬৮ জন, ২০১৮ সালে ১৩৯ জনের মধ্যে ১৩৭ জন এবং ২০১৭ সালে ১৬৪ জন পরীক্ষার্থীর সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছিল।
বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া এক শিক্ষার্থী উল্লাস প্রকাশ করে বলে, দেশের নানা প্রতিকূলতার কারণে পড়াশোনায় অনেক ব্যাঘাত ঘটেছিল। কিন্তু শিক্ষকদের কঠোর পরিশ্রম ও সঠিক দিকনির্দেশনায় আমরা তা কাটিয়ে উঠতে পেরেছি। আমাদের এই ফলাফলে সব কষ্ট মুছে গেছে।
আরেক শিক্ষার্থী জানায়, বিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান স্যারের দিকনির্দেশনা, শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রম, নিয়মিত ও বিশেষ ক্লাস, গাইড টিচারের মাধ্যমে হোম ভিজিট এবং টিউটোরিয়াল পরীক্ষার কারণেই এই অনন্য অর্জন সম্ভব হয়েছে।
নাছিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুল অ্যান্ড হোমসের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও থার্মেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুল কাদির মোল্লা বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানটি বরাবরই ভালো ফলাফল করছে। সারাদেশে সার্বিক ফলাফল বিশ্লেষণ করলে আশা করছি আমরা এবারও শীর্ষস্থানে থাকব। নরসিংদীর মতো মফস্বল শহরে মানসম্মত শিক্ষা প্রদানের অঙ্গীকার নিয়েই আমি ও আমার সহধর্মিণী স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেছিলাম। আমরা চেয়েছি সুশিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যেন প্রকৃত মানবসম্পদে পরিণত হয়।
তিনি আরও যোগ করেন, প্রতিষ্ঠানের চার স্তম্ভ—পরিচালনা পর্ষদ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক। আমাদের সাফল্যের মূল রহস্য হলো, আমরা এই চার পক্ষকে একে অপরের থেকে কখনো বিচ্ছিন্ন হতে দিই না।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইমন হোসেন বলেন, আমাদের সাফল্যের মূল অনুপ্রেরণা প্রতিষ্ঠাতা আবদুল কাদির মোল্লা স্যার। তার ইনোভেটিভ চিন্তা-চেতনা ও দিকনির্দেশনায় আমাদের এই পথচলা। এছাড়া আমাদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এতো পরিশ্রম করেন যে ভালো ফলাফল হতে বাধ্য। একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমেও আমাদের শিক্ষার্থীরা সেরা অর্জন বজায় রাখছে।
২০০৮ সালে থার্মেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুল কাদির মোল্লা শহরের ভেলানগর এলাকায় নিজের ও স্ত্রীর নামে যৌথভাবে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন। বর্তমানে ১৭৪ জন তরুণ ও মেধাবী শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে কঠোর শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে পরিচালিত বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৫ হাজার ২০০ জন।
.png)


