পাবনার যমজ দুই বোন পেল জিপিএ-৫

পাবনার সুজানগরে এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে যমজ দুই বোন সাইয়িদা জান্নাত নাওমি ও সাইয়িদা জাহান নাওফি। তারা দুজনই সুজানগর সরকারি পাইলট মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। যমজ দুই বোনের এই অর্জনে পরিবার, বিদ্যালয় ও এলাকাজুড়ে আনন্দের আবহ সৃষ্টি হয়েছে।
নাওমি ও নাওফির বাড়ি সুজানগর পৌরসভার মানিকদীর এলাকায়। তাদের বাবা জহুর আহমাদ সরকার সুজানগর মহিলা ডিগ্রি কলেজের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক এবং মা মনিরা পারভীন সেলিম রেজা হাবিব ডিগ্রি কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ের শিক্ষক।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, জন্মের পর থেকেই একসঙ্গে বেড়ে উঠেছে দুই বোন। একই বিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি তারা একে অপরকে নিয়মিত সহযোগিতা করত। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি দুজনেরই ছিল প্রবল আগ্রহ।
এমন সাফল্যের পর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে দুই বোন বলে, আমরা একই দিনে পৃথিবীতে এসেছি, একসঙ্গে বড় হয়েছি এবং একসঙ্গে পড়াশোনা করেছি। আমাদের এই অর্জনে আমরা ভীষণ আনন্দিত। বাবা-মা ও শিক্ষকদের অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতাই আমাদের আজ এ দূর নিয়ে এসেছে। ভবিষ্যতেও দুই বোন একসঙ্গে এগিয়ে যেতে চাই। চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করাই আমাদের লক্ষ্য। এই স্বপ্নপূরণে তারা সবার কাছে দোয়া চেয়েছে।
মা মনিরা পারভীন বলেন, মেয়েদের এই সাফল্যে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। ছোটবেলা থেকেই ওরা একসঙ্গে পড়াশোনা করেছে এবং একে অপরকে পড়াশোনায় সাহায্য করেছে। প্রতিটি অভিভাবক যদি সন্তানদের পর্যাপ্ত সময় দেন ও উৎসাহিত করেন, তবে যে কোনো সন্তানই ভালো ফল করতে পারবে। মেয়েরা ভবিষ্যতে চিকিৎসক হয়ে যেন মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারে—এটাই আমার প্রত্যাশা।
বাবা জহুর আহমাদ সরকার বলেন, মেয়েদের সাফল্যে আমি গর্বিত। তবে শুধু ভালো জিপিএ নয়, তারা যেন আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে এবং সমাজের কল্যাণে কাজ করে—এটাই আমাদের মূল প্রত্যাশা। চিকিৎসক হয়ে মানবসেবার যে স্বপ্ন তারা দেখছে, তা পূরণে আমরা সবসময় তাদের পাশে থাকব।
সুজানগর সরকারি পাইলট মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামিল আক্তার বলেন, নাওমি ও নাওফি পড়াশোনার পাশাপাশি তাদের শৃঙ্খলা ও বিনয়ী আচরণের জন্যও বিদ্যালয়ে সবার কাছে প্রশংসিত ছিল। তারা শুধু মেধাবীই নয়, ভালো মানুষ হিসেবেও গড়ে উঠছে। তাদের এই চমৎকার সাফল্যে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত।



