logo

লাখ টাকায় গাড়ি তৈরি, এক চার্জে চলবে ৮০ কিলোমিটার

লাখ টাকায় গাড়ি তৈরি, এক চার্জে চলবে ৮০ কিলোমিটার
সাইকেল মেরামতকারী বকুলের ব্যাটারিচালিত গাড়িতে উঠেছেন কয়েকজন শিশু। ছবি : এশিয়া পোস্ট

সাধ আছে, কিন্তু সাধ্য নেই। সাধারণ একটি প্রাইভেটকার কেনার সামর্থ্য না থাকলেও নিজের গাড়ি থাকার স্বপ্ন ছাড়েননি লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বাইসাইকেল মেকার বকুল রায়। দীর্ঘদিনের সেই স্বপ্ন পূরণে নিজেই তৈরি করেছেন ব্যাটারিচালিত একটি ছোট প্রাইভেট কার। পুরোনো ও নতুন বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে গাড়িটি তৈরি করতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ১ লাখ টাকা। বকুলের দাবি, নতুন ব্যাটারি সংযোজন করা গেলে একবার চার্জে গাড়িটি চলবে প্রায় ৮০ কিলোমিটার।

বকুল রায় পাটগ্রাম উপজেলার জগদবের মুন্সিরহাট গ্রামের রংমহন রায়ের ছেলে। মুন্সিরহাট বাজারে তার একটি ছোট বাইসাইকেল মেরামতের দোকান রয়েছে। সেখানে সাইকেল ও ভ্যান মেরামতের কাজের পাশাপাশি নিজের পরিকল্পনা ও কারিগরি দক্ষতা কাজে লাগিয়ে তৈরি করেছেন গাড়িটি।

বকুল জানান, ছোটবেলা থেকেই নিজের একটি প্রাইভেট কার থাকার শখ ছিল তার। কিন্তু পেশাগত আয় দিয়ে সাধারণ একটি প্রাইভেটকার কেনার সামর্থ্য ছিল না। দীর্ঘদিনের সেই ইচ্ছা থেকেই নিজে গাড়ি তৈরির পরিকল্পনা করেন। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রকৌশলবিদ্যা না শিখলেও দীর্ঘদিনের মেরামতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তৈরি করেন ব্যাটারিচালিত গাড়িটি। পুরোনো ও নতুন বিভিন্ন যন্ত্রাংশ কিনতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ১ লাখ টাকা।

বকুলের উদ্ভাবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে তার বাবার সৃজনশীলতার গল্পও। প্রায় ২০ বছর আগে তার বাবা রংমহন রায় বাঁশ দিয়ে একটি ব্যতিক্রমী বাইসাইকেল তৈরি করেছিলেন। ওই সাইকেল তৈরি করে এলাকায় প্রশংসা ও পুরস্কারও পেয়েছিলেন তিনি। বাবার সেই সৃজনশীলতার ধারাবাহিকতায় এবার ছেলে বকুল তৈরি করলেন ব্যাটারিচালিত প্রাইভেটকার।

সাইকেল মেকারের হাতে তৈরি ব্যাটারিচালিত গাড়ি। ছবি : এশিয়া পোস্ট
সাইকেল মেকারের হাতে তৈরি ব্যাটারিচালিত গাড়ি। ছবি : এশিয়া পোস্ট

গাড়িটিতে ১২০ ওয়াটের ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানান বকুল। তবে বর্তমানে এতে পুরোনো ব্যাটারি থাকায় একবার চার্জে প্রায় ৩০ কিলোমিটার চলতে পারে। নতুন ব্যাটারি সংযোজন করা গেলে এক চার্জে প্রায় ৮০ কিলোমিটার চলবে বলে তার প্রত্যাশা।

বকুলের তৈরি গাড়িটি দেখতে প্রতিদিন তার দোকান ও আশপাশের এলাকায় ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দারাও তার এই উদ্যোগে আনন্দিত ও গর্বিত।

স্থানীয় শিক্ষক ও বাসিন্দা হরেন চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমাদের মুন্সিরহাটের মতো মফস্বল এলাকায় বসে বকুল যে কাজটি করেছে, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য। ওর কোনো বড় ডিগ্রি নেই, কিন্তু ওর কাজের হাত দারুণ। সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে সে আরও বড় কিছু করতে পারত।’

স্থানীয় বাজারের ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমরা প্রতিদিনই বকুলকে সাইকেল ঠিক করতে দেখি। অথচ সে নিজের বুদ্ধিতে এত সুন্দর একটা গাড়ি বানিয়ে ফেলল! এটা শুধু ওর একার নয়, আমাদের পুরো এলাকার জন্য গর্বের বিষয়।’

স্থানীয় যুবক সুজন ইসলাম বলেন, ‘টাকার অভাবে অনেকের শখ মরে যায়। কিন্তু বকুলদা প্রমাণ করে দিয়েছেন, ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়। ১ লাখ টাকায় এমন একটা গাড়ি বানিয়ে তিনি আমাদের চোখ খুলে দিয়েছেন।’

বকুলের উদ্ভাবনী উদ্যোগের প্রশংসা করে পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আক্তার বলেন, বাইসাইকেল মেরামতের মতো সাধারণ পেশার সঙ্গে যুক্ত থেকে বকুল রায় যেভাবে নিজের মেধা দিয়ে একটি প্রাইভেট কার তৈরি করেছেন, তা অবশ্যই অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যেও অসাধারণ প্রতিভা লুকিয়ে আছে। আমরা চাই, তিনি সরকারি বা বেসরকারি সহযোগিতা পান এবং ভবিষ্যতে আরও ভালো কিছু আবিষ্কার করে দেশের নাম উজ্জ্বল করেন।

রবিউল ইসলাম

সম্পাদনা

রবিউল ইসলাম

সাব এডিটর | এশিয়া পোস্ট