মধ্যরাতে ঝড়ো হাওয়ায় লন্ডভন্ড নাজিরারটেক শুঁটকি মহাল

কক্সবাজারের ঐতিহ্যবাহী নাজিরারটেক শুঁটকি মহালে মধ্যরাতে সৃষ্ট আকস্মিক ঝড়ো হাওয়ার তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মাত্র কয়েক মিনিটের দমকা হাওয়ায় শুঁটকি মহালের অন্তত ২০টি ঘর ও দোকান সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়। সেই সঙ্গে মাচায় শুকানো এবং গুদামে সংরক্ষিত কাঁচা ও প্রক্রিয়াজাত কোটি টাকার মাছ বাতাসে উড়ে গিয়ে এবং পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে।
কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ আবুল হান্নান জানান, সোমবার দিবাগত মধ্যরাতে এই ঝড়ো হাওয়া আঘাত হানে। উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি ঘনীভূত হওয়ায় কক্সবাজারসহ দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোতে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত জারি করা হয়েছে। গভীর সমুদ্রে অবস্থানরত মাছ ধরার ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলে থাকতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ১১৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। নিম্নচাপের প্রভাবে ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। টানা বৃষ্টিতে মাটি নরম থাকায় মধ্যরাতের বাতাসের তীব্রতায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি হয়েছে।
নাজিরারটেক মৎস্য ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, মধ্যরাতে হঠাৎ ভারী বৃষ্টির সঙ্গে বাতাস বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে বাতাসের তীব্রতায় শুঁটকি পল্লির আড়তগুলোর চাল উড়ে যায় এবং মাচায় রাখা মাছ বাতাসে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে।
ব্যবসায়ী নুর হোসেন জানান, ভোরের আলো ফুটতেই দেখা যায় আধা কিলোমিটার দূর পর্যন্ত ঘরের চাল এবং পলিশিটে ঢেকে রাখা ছুরি, লইট্যা, ফাইস্যা, চইক্কা ও পোপা মাছ বাতাসে উড়ে ছড়িয়ে আছে।
ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দের দাবি, ঝড়ে ১৫-২০টি ঘর ও আড়ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে প্রায় ১ কোটি টাকার লোকসান হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকারের দ্রুত জরুরি সহযোগিতা ও সহায়তা কামনা করেছেন।
কক্সবাজার শহর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে প্রায় ১০০ একর জমিতে গড়ে উঠেছে নাজিরারটেক শুঁটকি মহাল। প্রতি মৌসুমে এখান থেকে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানির জন্য ৫০ থেকে ৬০ হাজার টন শুঁটকি উৎপাদন করা হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ২০০ কোটি টাকা।



