ময়মনসিংহ মেডিকেল/বন্ধ ছিল চার সিঁড়ি, একটি দিয়ে নামতে গিয়ে ছয় মৃত্যু

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের সময় চারটি সিঁড়ি বন্ধ ছিল। খোলা থাকা একটি সিড়ি দিয়ে রোগী ও তাদের স্বজনরা তাড়াহুড়ো করে নিচে নামার চেষ্টা করেন। এতে হুড়োহুড়িতে পদদলিত হয়ে শিশুসহ ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে এশিয়া পোস্টকে এসব তথ্য জানিয়েছেন ময়মনসিংহ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন।
তিনি বলেন, ঘটনা যে ভবনটিতে ঘটেছে (নতুন ভবন) সেই ভবনটিতে জরুরিভাবে দুর্ঘটনার সময় দ্রুত বের হওয়ার জন্য বা বাহির থেকে উদ্ধার কাজের জন্য বা বহির্গমনের কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। সেখানে চারটি সিড়ি থাকার পরও সেগুলোকে সব সময় তালাবন্ধ করে রাখা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বারবার এ ব্যাপারে অবগত করার পরও তারা এগুলো খুলে রাখার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, হাসপাতালের বহির্বিভাগে (নতুন ভবন) লিফটের মাধ্যমে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানানো হয়।
তিনি জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার হাসপাতালের জরুরী বিভাগে খোঁজ নিয়ে জানা যায়–আগুন লাগার ঘটনায় রোগী ও রোগীর স্বজনদেন মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তারা হাসপাতালের খোলা থাকা একটি সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে অজ্ঞাতপরিচয় এক শিশুসহ ছয়জন মারা যান।
তার দেওয়া তথ্যমতে মৃতদের মধ্যে পাঁচজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন, ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার বালিখা গ্রামের কুলসুমা, ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া গ্রামের শাহজাহান, একই উপজেলার রমজান, জাহানারা এবং নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার বসী গ্রামের হাজেরা বেগম।
সোমবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের ৮ তলায় লিফল কট্রোল রুম অতিরিক্ত গরম হয়ে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয় বলে ধারণা ফায়ার সার্ভিসের। ঘটনার সময় আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রচন্ড ধোঁয়া বের হতে থাকে। পরে ফায়ার সার্ভিসের প্রায় এক ঘন্টার চেষ্টা আগুন ও ধোঁয়া সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে।
সরেজমিন হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, শত-শত রোগী হাসপাতাল চত্বরে অবস্থান করছেন। এর মধ্যে অনেক গুরুতর রোগী রয়েছেন। কারও হাত ভাঙা, আবার কারও মাথায় ব্যান্ডেজ। আতঙ্কে অনেক রোগী কান্নাকাটি করছেন।
আগুন ও ধোঁয়া সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসার পর গণমাধ্যমে কথা বলেন ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মো. জাকিউল ইসলাম। তারা তখন জানান, কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। অগুন লাগার ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করা হবে।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, অনেকবার অগ্নিকাণ্ড ঘটার পরও একটি সিঁড়ি, যেটি দিয়ে হাসপাতালের রোগীরা এবং রোগীর সঙ্গে থাকা স্বজনরা চলাচল করে এই সিঁড়িটি ছাড়া অন্য সব সিঁড়ি তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। সিঁড়িগুলো তালাবন্ধ করে রাখার কারণে আগুন লাগার সময় মানুষ একটি মাত্র সিঁড়ি দিয়ে আতঙ্কে তাড়াহুড়ো করে বের হওয়াতে পদদলিত হয়ে তারা মারা গেছেন।


