ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই ক্যামেরায় ‘অটো ফাইন’, ৮ ঘণ্টায় ৪২৩ মামলা

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ক্যামেরার মাধ্যমে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কার্যক্রম চালুর প্রথম দিনে সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ৮ ঘণ্টায় ৪২৩টি মামলা দিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বেলা ১১টা থেকে নারায়ণগঞ্জ থেকে চট্টগ্রাম সিটি পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত এআই ক্যামেরার মাধ্যমে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত করে এসব মামলা করা হয়। এর আগে প্রথম তিন ঘণ্টায় ৩৭৯টি মামলা হওয়ার তথ্য জানানো হলেও পরে হালনাগাদ হিসেবে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মামলার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৪২৩টিতে।
হাইওয়ে পুলিশের কুমিল্লা রিজিয়নের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহিনুর আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত প্রায় ২৫০ কিলোমিটার মহাসড়ক এআই ক্যামেরার নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। মহাসড়কের ৪৯০টি পয়েন্টে বসানো হয়েছে ১ হাজার ৪২৭টি ক্যামেরা। এসব ক্যামেরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে যানবাহনের নম্বর প্লেট শনাক্ত করতে পারে।
অতিরিক্ত গতি, নির্ধারিত লেন না মানা, বিপজ্জনকভাবে ওভারটেকিং, উল্টো পথে গাড়ি চালানো ও অবৈধ পার্কিংসহ বিভিন্ন ধরনের ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন এসব ক্যামেরায় ধরা পড়ছে। আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত হওয়ার পর স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে ডিজিটাল মামলা দেওয়া হচ্ছে। মামলার তথ্য সংশ্লিষ্ট যানবাহনের নিবন্ধিত মালিকের মোবাইল নম্বরে খুদে বার্তার (এসএমএস) মাধ্যমে পাঠানো হচ্ছে এবং নির্ধারিত মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে জরিমানার টাকা পরিশোধের সুযোগ রাখা হয়েছে।
হাইওয়ে পুলিশ জানায়, রাজধানীতে আগে আধা-স্বয়ংক্রিয় এআই ক্যামেরার মাধ্যমে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা করা হলেও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির এআই ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে।
এর আগে গত শনিবার হাইওয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১৮ আগস্ট থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম, অবৈধ পার্কিং ও উল্টো পথে যানবাহন চালানোসহ বিভিন্ন ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



