চাঁদপুরে ভরা মৌসুমেও ইলিশের আকাল, বাজারে চড়া দাম

ইলিশের ভরা মৌসুম চলছে, কিন্তু নদীতে নেই কাঙ্ক্ষিত ইলিশ। বাজারেও নেই স্বস্তি। চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মাছের আড়ত ও বাজারগুলোতে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ। এক কেজি ওজনের একটি ইলিশ কিনতে ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা। অথচ একই টাকায় কেনা যাচ্ছে প্রায় আড়াই থেকে তিন মণ আলু। ফলে জাতীয় মাছ ইলিশ এখন সাধারণ মানুষের খাবারের তালিকায় যেন বিলাসী পণ্যে পরিণত হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মতলব উত্তর উপজেলার আমিরাবাদ, একলাশপুর ও বাবুবাজারের মাছের আড়তে গিয়ে দেখা যায়, অন্যান্য মাছের তুলনায় ইলিশের দাম বেশ চড়া। বড় আকারের ইলিশের সরবরাহ কম থাকায় দামও বেশি। ৬০০ থেকে ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশও প্রতি কেজি প্রায় ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
আমিরাবাদ আড়তের ব্যবসায়ী জুয়েলমীর বলেন, নদী থেকে ইলিশের সরবরাহ কমে যাওয়াই দাম বাড়ার অন্যতম কারণ। আড়তে মাছের পরিমাণ কম থাকলেও ক্রেতাদের চাহিদা রয়েছে। ফলে কম সরবরাহ ও বেশি চাহিদার প্রভাব পড়ছে বাজারদরে।
শুধু বাজারেই নয়, সংকটের চিত্র আরও স্পষ্ট নদীতে। জেলেরা বলছেন, আগের মতো জালে ইলিশ ধরা পড়ছে না। অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা নদীতে অবস্থান করেও জালে আশানুরূপ মাছ উঠছে না। অথচ মাছ ধরতে নৌকার জ্বালানি, শ্রমিক, বরফ ও খাবারের পেছনে প্রতিদিনই বাড়ছে খরচ।
ষাটনল জেলে পাড়ার জেলে টিটু বর্মন ও লক্ষ্মণ বর্মন বলেন, নদীতে মাছ না থাকলে আমাদের কষ্টটা কেউ বোঝে না। জাল ফেলতে যে খরচ হয়, অনেক সময় সেই টাকাটাও ওঠে না। মাছ পেলে সংসার চলে, না পেলে ধারদেনা করতে হয়। কিস্তি আর মহাজনদের ঋণের টাকা ঠিকমতো পরিশোধ করতে পারছি না। ছেলেমেয়েদের নিয়ে খুব অভাবে আছি।
ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে ইলিশের দাম এতটাই বেড়েছে যে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেকের পক্ষেই এখন ইলিশ কেনা কঠিন। আনোয়ার হাবিব নামে এক ক্রেতা বলেন, এক কেজি ইলিশের দাম যদি আড়াই হাজার টাকার ওপরে হয়, তাহলে পরিবারে ইলিশ খাওয়ানো কঠিন। একই টাকায় অনেক কেজি আলু বা অন্য মাছ কেনা যায়।
মাছ ব্যবসায়ীদের মতে, নদীতে ইলিশের সরবরাহ বাড়লেই বাজারে দাম কমতে পারে। তবে কখন সেই সরবরাহ বাড়বে, তা নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না তারা।
মতলব উত্তর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মির্জা ওমর ফারুক বলেন, ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে জাটকা সংরক্ষণ, নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা বন্ধ এবং অবৈধ জালের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নদীতে ইলিশের বিচরণ ও সরবরাহ বাড়লে বাজারে দামও স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
